সোমবার

২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১০ কার্তিক, ১৪৩৩

সরাইলে নাচের অনুষ্ঠানের কথা বলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: বিয়ানীবাজার থেকে আসামি গ্রেপ্তার

মোছাব্বির হাসান সজীব,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:০৪

শেয়ার

সরাইলে নাচের অনুষ্ঠানের কথা বলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: বিয়ানীবাজার থেকে আসামি গ্রেপ্তার
ছবি: বাংলা এডিশন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে নাচের অনুষ্ঠানের কথা বলে এক নৃত্যশিল্পীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় মুজাহিদ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯। মঙ্গলবার রাতে সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মুজাহিদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বুড্ডা গ্রামের আঙ্গুর মিয়ার ছেলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

এসআরবি-৯ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ১৬ বছর বয়সী একজন পেশাদার নৃত্যশিল্পী। গত ৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পেজ থেকে নম্বর সংগ্রহ করে রাকিব নামে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করেন। ১০ সেপ্টেম্বর একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের কথা বলে ৯ হাজার টাকা পারিশ্রমিকে তার সঙ্গে চুক্তি করা হয়।

চুক্তি অনুযায়ী ১০ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী ও তার দুই সহযোগী কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিকেল ৪:৩০ মিনিটের দিকে তারা সরাইলের কুট্টাপাড়া বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে অপেক্ষমাণ রাকিব তাদের গ্রহণ করেন। পরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে তাদের শাহবাজপুর ব্রিজের নিচে নেয়া হয়।

সেখানে নদীপথে দ্রুত বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে তাদের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তোলা হয়। নৌকাটি তিতাস নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় রাকিবের সহযোগিতায় অজ্ঞাতনামা আরও দুই ব্যক্তি নৌকার ছাউনির ভেতরে প্রবেশ করে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন করে। নৌকায় থাকা অন্যরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়।

পরে ভুক্তভোগীসহ অন্যদের নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ এলাকায় নদীর পাড়ে নামিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা নৌকাযোগে পালিয়ে যান বলে মামলার বিবরণে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে সরাইল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় করা হয়।

মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত শুরু করে এসআরবি-৯। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-৯ সদর কোম্পানি, সিলেট এবং সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি যৌথ দল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিয়ানীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মুজাহিদকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৯।

বাহিনীটি আরও জানিয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।