শুক্রবার

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০ আশ্বিন, ১৪৩৩

প্রস্তাবিত সাইবার আইন সংশোধনী নিয়ে বিএমএসএফের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৫

শেয়ার

প্রস্তাবিত সাইবার আইন সংশোধনী নিয়ে বিএমএসএফের উদ্বেগ
ছবি সংগৃহীত

প্রস্তাবিত সাইবার আইন সংশোধনীতে সংবাদ প্রকাশ ও সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএমএসএফের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, আইন প্রণয়নের নামে একেক সরকার একেক ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরুদ্ধ করার ঘটনা নতুন নয়। তবে যেকোনো আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে বৈঠক করে আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে। কোনো দলীয় নেতা-কর্মীদের সাংবাদিক বানিয়ে আইন প্রণয়নের নামে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হলে সাংবাদিক সমাজ তা মেনে নেবে না।

প্রস্তাবিত শাস্তি ও ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

বিএমএসএফের বিবৃতিতে বলা হয়, সংশোধিত আইনে অনলাইনে গুজব, ভুল তথ্য বা যাচাইহীন তথ্য প্রকাশের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান এবং সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের মতো প্রস্তাবিত ক্ষমতা সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ক্ষেত্রে নতুন আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক সাংবাদিক অধিকার সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)ও এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

সংগঠনটির মতে, ভুল তথ্য, অপতথ্য বা যাচাইহীন তথ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ও নিরপেক্ষ আইনগত মানদণ্ড থাকা জরুরি। অন্যথায় জনস্বার্থে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হয়রানি বা মামলার মুখোমুখি হতে পারেন।

সংশোধনী পুনর্বিবেচনার আহ্বান

বিএমএসএফ সরকারকে প্রস্তাবিত সংশোধনী পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, সাইবার অপরাধ দমনের পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

বিচ্ছিন্নভাবে আইন সংশোধনের পরিবর্তে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করে সাংবাদিক সংগঠন, সম্পাদক, সংবাদমাধ্যমের মালিক, আইনজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদ ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শের মাধ্যমে গণমাধ্যম ও সাইবার আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বিএমএসএফ।