চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. হারুনুর রশিদকে (৫৮) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে তাকে আটকের পর বাঁশখালী থানা পুলিশের একটি দল ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, 'হারুনুর রশিদকে আটক করার খবর পাওয়ার পর বাঁশখালী থানা পুলিশের একটি দল ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।'
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে মো. হারুনুর রশিদ বিভিন্ন মামলায় আসামি হয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। সম্প্রতি তিনি দেশে ফেরার পথে ঢাকার বিমানবন্দরে পৌঁছালে মামলার কারণে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে বলে জানা গেছে। তাকে সংশ্লিষ্ট পুলিশের কাছে হস্তান্তর এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে হারুনুর রশিদকে আটকের পর মঙ্গলবার রাতে তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তার মেয়ে জাহিদা ফাতেমা উর্মে। পোস্টে তিনি তার বাবাকে "নোংরা রাজনীতির বলি" হিসেবে উল্লেখ করেন।
জাহিদা ফাতেমার দাবি, তার বাবা ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দুইবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং ১৯৯১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মামলা, হামলা ও হয়রানির কারণে তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন বলেও দাবি করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে জাহিদা আরও দাবি করেন, প্রায় দুই বছর মোজাম্বিকে অবস্থানের পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে তার বাবা নিজ এলাকায় মানুষের জন্য ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর ২০২৪ সালের আগস্ট ও নভেম্বরের দুটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিজের পোস্টে বাবার পক্ষে প্রশ্ন তুলে জাহিদা ফাতেমা উর্মে লেখেন, 'রাজনীতি করাই কি তাহলে ওনার অপরাধ? দেশের মানুষের জন্য চিন্তা করাটাই কি ওনার জন্য অভিশাপ?'
তবে এসব বক্তব্য তার মেয়ের ফেসবুক পোস্টে করা দাবি; এর স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
মো. হারুনুর রশিদ ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর আইনগত প্রক্রিয়া ও আটকের পরবর্তী কার্যক্রম পুলিশের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন:







