পটুয়াখালী গলাচিপা উপজেলার চর বিশ্বাস ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চর বাংলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রায় ৩০ একর জমি দখল এবং জমিতে থাকা ধানের বীজতলা ট্রাক্টর দিয়ে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে গণ অধিকার পরিষদের স্থানীয় নেতাকর্মী ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের কয়েকজন নিকট আত্মীয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত (১৪ সেপ্টেম্বর) সোমবার বিকেলে চর বিশ্বাস ইউনিয়ন গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সদস্যসচিব কামাল খলিফা, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের আপন চাচাতো ভাইয়ের ছেলে বাহাদুর হাওলাদার, যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুল মোল্লা, সদস্যসচিব রাহাত, সুমন হাওলাদার ও মুছা হাওলাদারসহ ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকর্মী ট্রলারে করে চর বাংলায় যান। পরে তাঁরা স্থানীয়দের ভোগদখলে থাকা জমিতে গিয়ে দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, শহিদুল মোল্লা, রাজাক মৃধা, আফজাল হাওলাদার, রফিক মোল্লা, সিকান্দার হাওলাদার ও খলিল শিকদারসহ ৪৬ জনের ভোগদখলে থাকা প্রায় ৩০ একর জমি দখলের চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে জমিতে থাকা ধানের বীজতলা ট্রাক্টর দিয়ে নষ্ট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
চর বাংলার বাসিন্দা খলিল শিকদার বলেন, ‘১৯৯০ সাল থেকে তিনি চর বাংলায় বসবাস করছেন। স্থানীয়রা সরকারি খাসজমি ডিসিআর (ডুপ্লিকেট কার্বন রসিদ) কেটে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু নুরুল হক নুর এমপি হওয়ার পর তাঁর দলের লোকজন ও আত্মীয়রা ওই জমি দখলের চেষ্টা করছেন।’
খলিল শিকদারের দাবি, তিনি ছাড়াও আরও ৪৫ জনের প্রায় ৩০ একর জমি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। ‘এই জমিটুকু ছাড়া আমাদের আর কিছু নেই। আমরা সরকারের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই,’ বলেন তিনি।
আরেক বাসিন্দা মো. আল আমিন বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে কর দিয়ে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু এখন গণ অধিকার পরিষদের লোকজন তাঁদের জমি দখল করছেন বলে অভিযোগ তাঁর। তিনি বলেন, ‘আমরা কার কাছে অভিযোগ করব? যাঁদের কাছে বলব, তাঁরাই এখন সরকারের সঙ্গে আছেন।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এসব জমি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। হঠাৎ করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করা হলে এলাকায় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং জমির কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা ও বৈধ ভোগদখল নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে গণ অধিকার পরিষদের সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে চর বাংলায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
আরও পড়ুন:







