মঙ্গলবার

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩

প্রতিবন্ধী না হয়েও ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ যশোরের একই পরিবারের তিন জনের বিরুদ্ধে

কে এম জারিদুল ইসলাম, যশোর

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:২৪

আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১৩

শেয়ার

প্রতিবন্ধী না হয়েও ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ যশোরের একই পরিবারের তিন জনের বিরুদ্ধে
ছবি: সংগৃহীত

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নে শারীরিকভাবে সুস্থ ব্যক্তিরা প্রতিবন্ধী সেজে ভাতা তুলছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ ও অনুসন্ধানে একই পরিবারের ৩ জনেরও বেশি ব্যক্তি জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে সরকারি টাকা আত্মসাতের তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, পানিসারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মোহিনিকাঠি গ্রামের সৈয়দ গাজীর ছেলে শাহাজাহান, তার মেয়ে সুমাইয়া, ইসমাইল মোড়লের মেয়ে সুফিয়া বেগম, নবু মোড়লের মেয়ে ফাতেমা বেগম, আব্দুল গফুরের ছেলে উকিল মিয়া, উকিল মিয়ার ভাগ্নে সাগর হোসেন, মোসলেম গাজীর দুই ছেলে এনামুল ও মনিরুল, মনিরুলের স্ত্রী জেসমিন বেগম এবং তাদের ছেলে রাফিদ সহ আরও অনেকে সুস্থ থাকার পরও নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণ করছেন।

ভাতা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এনামুল তার পায়ের গোড়ালির একটি ঘায়ের দাগ দেখিয়ে বলেন, "এই কারণেই ভাতার ব্যবস্থা করেছি।"

মনিরুলের স্ত্রী জেসমিন বেগম বলেন, "পড়ে গিয়ে কোমরে ব্যথা পেয়েছিলাম। স্বামীর কোমরে ও ছেলের হাতে সমস্যা আছে।"

শাহাজাহানের মা সখিনা বেগম দাবি করেন, "ছেলের চোখে সামান্য সমস্যা। নাতনি সুমাইয়া ছোটবেলায় ঠিকমতো হাঁটতে পারতো না, তাই আবেদন করেছি।"

এছাড়া উকিল মিয়ার ভাইয়ের স্ত্রী ও সাগরের মামি মর্জিনা বেগম বলেন, "চোখে সামান্য সমস্যার কারণে ভাতা পাচ্ছি।" মর্জিনার স্বামী সোনা মিয়াও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী।

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “আগে অনেকেই এভাবে প্রতিবন্ধী না হয়েও ভাতা নিয়েছেন। আমরা এ ধরনের অনিয়মের খবর পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। প্রকৃত প্রতিবন্ধী না হলে তার ভাতা বাতিল করা হবে।”

সামান্য অজুহাত দেখিয়ে সুস্থ মানুষেরা ভাতা ভোগ করায় প্রকৃত প্রতিবন্ধীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সচেতন মহল দ্রুত ভুয়া সুবিধাভোগীদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রকৃত প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।