মঙ্গলবার

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩

নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ৯ মাসে ৮৫০ অপারেশন, চিকিৎসা সেবায় নতুন ধার উন্মোচন

মোঃ খোকন,নেত্রকোনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩৫

শেয়ার

নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে  ৯ মাসে ৮৫০ অপারেশন, চিকিৎসা সেবায় নতুন ধার উন্মোচন
ছবি: বাংলা এডিশন

সারাদেশে চিকিৎসা খাতে যখন হাজারো প্রশ্নের জন্ম নিচ্ছে ঠিক তখনই নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল অসহায় দরিদ্র পুরুষ রোগীদের জন্য হয়ে উঠছে আশার বাতিঘর।

নেত্রকোনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে মাইনর ও মেজর অস্ত্রোপচার কার্যক্রমে এসেছে এক নতুন গতি। তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ একরামুল হাসানের তত্ত্বাবধানে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে পুরুষ রোগীদের জন্যও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচারের মতো জটিল চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গাইনি ও অবস্‌, অর্থোপেডিক্স এবং নাক-কান-গলা (ENT) বিভাগের নির্ধারিত অপারেশনও চলছে পূর্বের ন্যায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মেজর ও মাইনর মিলিয়ে আনুমানিক ৮৫০টি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে পিত্তথলির পাথর, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, পায়ুপথের বিভিন্ন রোগ, হাইড্রোসিল, স্তন ও টনসিলের অস্ত্রোপচার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।পাশাপাশি প্লেট ও রড অপসারণ এবং কিছু প্লাস্টিক সার্জারির অংশ হিসেবে স্কিন গ্রাফটিংয়ের অস্ত্রোপচারও করা হচ্ছে।

এইধরনের জঠিল অস্ত্রোপচারের অধিকাংশরই নেত্রীত্ব দিয়েছেন সার্জন ডা.নাজমুস সাকিবের।হাসপাতালের সার্জারি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন সার্জন ডা. মোহাম্মদ নাজমুস সাকিব। তাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন ধরনের মেজর ও মাইনর অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে। ফলে এসব চিকিৎসার জন্য আগে রোগীদের ময়মনসিংহ সহ বিভিন্ন স্থানে যেতে হলেও এখন অনেক অপারেশন নেত্রকোনা সদর হাসপাতালেই করা সম্ভব হচ্ছে।

ডা. মোহাম্মদ নাজমুস সাকিব বলেন, ২০২৪ সাল থেকেই সার্জারি বিভাগে অপারেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং চলতি বছরেও নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। এ বছর মাইনর ও মেজর মিলিয়ে আনুমানিক ৮৫০টি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে পিত্তথলির পাথর, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, পায়ুপথের বিভিন্ন রোগসহ নানা ধরনের অস্ত্রোপচার রয়েছে। কিছু প্লাস্টিক সার্জারির অংশ হিসেবে স্কিন গ্রাফটিংয়ের অপারেশনও করা হচ্ছে এখন নেত্রকোনাতেই।

তিনি বলেন, আগে এসব অপারেশনের জন্য নেত্রকোনার রোগীদের ময়মনসিংহ সহ বিভিন্ন স্থানে যেতে হতো। এখন সদর হাসপাতালেই অনেক অপারেশন স্বল্প খরচে করা সম্ভব হচ্ছে। এতে রোগীদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমছে। হাসপাতালের সেবার প্রতি আস্থা রাখার জন্য তিনি নেত্রকোনাবাসীকে ধন্যবাদও জানান।

তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ একরামুল হাসান বলেন, আগে হাসপাতালে মূলত জরুরি প্রসূতি সেবা ও সিজারিয়ান অপারেশন চালু ছিল। গাইনি-সংক্রান্ত কিছু অপারেশন হলেও সার্জারি ও অর্থোপেডিকসের কার্যক্রম সীমিত ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৫ জুন থেকে ধীরে ধীরে বিভিন্ন অপারেশন চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে পিত্তথলি, হাইড্রোসিল, স্তন ও টনসিলের অপারেশন রয়েছে। পাশাপাশি প্লেট ও রড অপসারণের মতো কিছু অর্থোপেডিক অস্ত্রোপচারও করা হচ্ছে। এমনকি এক বয়স্ক নারীর ক্যানসারজনিত জটিল টিউমারের অস্ত্রোপচারও করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জনবল সংকটই বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। ৬৮ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৩০ জন। সীমিত জনবল দিয়ে সার্জারি, অর্থোপেডিকস ও ENT সেবা চালু রাখা হয়েছে। ফলে অনেক সময় অপারেশনের সিরিয়াল দীর্ঘ হচ্ছে। তবে জরুরি রোগীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সার্জনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ডা. একরামুল হাসান বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল ও লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানো গেলে অস্ত্রোপচারসেবা আরও সম্প্রসারণ ও উন্নত করা সম্ভব হবে। এতে নেত্রকোনার সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য হবে।