মঙ্গলবার

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩

কুমিল্লায় ‘সিরিয়াল কিলার’ মানিক গ্রেপ্তার, দুই হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি পুলিশের

কুমিল্লা,প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪৮

শেয়ার

কুমিল্লায় ‘সিরিয়াল কিলার’ মানিক গ্রেপ্তার, দুই হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি পুলিশের
ছবি: বাংলা এডিশন

কুমিল্লায় অটোরিকশাচালক হত্যা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিককে গ্রেপ্তারের পর দুটি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, মানিক মূলত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালকদের টার্গেট করে হত্যা করতেন। এ কারণে তাকে ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে উল্লেখ করেছে জেলা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানার আতিয়াবাড়ী এলাকায় একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি অটোরিকশাচালক মো. মেহেদী হিসেবে শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানায় হত্যা মামলা হলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখা ছায়া তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক, শাহেদ, ফাহিম ও সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা মেহেদীকে হত্যা এবং তাঁর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেন। আব্দুল ওয়াদুদ মানিক ও সেলিম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।

তদন্তের সময় মানিকের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে, মোবাইল ফোনটি নাঙ্গলকোটের নিখোঁজ অটোরিকশাচালক মো. আরমান হোসেনের।

পুলিশ জানায়, গত ২৪ জুলাই অটোরিকশাচালক আরমান হোসেন নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় প্রথমে নিখোঁজ ডায়েরি এবং পরে তাঁর মামার করা অপহরণ মামলা তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে আরমানের অটোরিকশার কাটা অংশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. জোবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম ও মো. গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজন জানান, তারা অটোরিকশাটি আব্দুল ওয়াদুদ মানিক ও সেলিমের কাছ থেকে পেয়েছেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্য এবং মানিকের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে আরমানের নিখোঁজের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত এগিয়ে নেয় পুলিশ।

এরই মধ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বর মনোহরগঞ্জ থানার বিনয়ঘর এলাকায় একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মনোহরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করা হয়।

পুলিশ জানায়, আরমানের অপহরণ মামলায় আব্দুল ওয়াদুদ মানিক ও সেলিমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরমানকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মনোহরগঞ্জের বিনয়ঘর এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেয়ার কথা জানিয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর আব্দুল ওয়াদুদ মানিক আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানায় পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শাহজাহান সাইমন নামে এক কিশোরকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে মানিকের বিরুদ্ধে। হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানাপ্রাচীরের পাশে একটি পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে ফেলে রাখা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।

ওই ঘটনায় লাকসাম থানায় হত্যা মামলা হয়। মামলার তদন্তে আব্দুল ওয়াদুদ মানিককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পুলিশের দাবি, তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালকদের টার্গেট করে হত্যাকাণ্ড ঘটাতেন। মেহেদী, আরমান ও শাহজাহান সাইমন হত্যার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে এসব অভিযোগ ও পুলিশের দাবি আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের আইনগত অধিকারের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।