মঙ্গলবার

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩

বাংলা এডিশনে সংবাদ প্রচারের পর সিএমপির সেই এসি প্রত্যাহার, দুই এএসআই ক্লোজড

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৭

শেয়ার

বাংলা এডিশনে সংবাদ প্রচারের পর সিএমপির সেই এসি প্রত্যাহার, দুই এএসআই ক্লোজড
ছবি: বাংলা এডিশন

অনলাইন জুয়ার মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে চট্টগ্রামে দুই যুবককে তুলে নিয়ে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দুই সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় অভিযুক্ত এক সহকারী পুলিশ কমিশনারকে (এসি) দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে সিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

‎সোমবার রাতে খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে সিএমপির সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশীদ জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতার ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার এএসআই বাছির উদ্দিন ও এএসআই আবু সুফিয়ানকে পুলিশ লাইনসে এবং এলআইসি শাখার এসি শরীফুল আলম চৌধুরী সুজনকে পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে।

‎গত বুধবার এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলা এডিশন। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বিষয়টি আমলে নেন এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. বদিউজ্জামানকে প্রধান করে এক সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

‎তদন্ত কমিটির প্রধান উপ-পুলিশ কমিশনার মো. বদিউজ্জামান বলেন, "ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত কার্যক্রম জোরদারভাবে চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিএমপি কমিশনারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।"

‎এদিকে ভুক্তভোগী শাকিল জানান, বাংলা এডিশনে সংবাদ প্রকাশের পর সিএমপির পক্ষ থেকে তার সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ও তার বন্ধু মনসুর ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটির কাছে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

‎এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে নগরের হালিশহর কে-ব্লক এলাকার বাসা থেকে তাকে ও তার বন্ধু মো. মনসুরকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায় এসি শরীফুল আলম চৌধুরী সুজনের নেতৃত্বাধীন ৮ জনের একটি দল। এরপর তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা বা পরোয়ানা ছাড়াই খোদ সিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের নিচতলায় অবস্থিত ল-ফুল ইন্টারসেপশন সেল (এলআইসি)-এর কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়।

‎সেখানে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি ও ব্যক্তিগত ভিডিও অনলাইনে ছেড়ে দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে শাকিলের বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ‘নগদ’ অ্যাপ থেকে মোট ২০ লাখ ৮০ হাজার সমপরিমাণের ক্রিপ্টোকারেন্সি ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। শুধু তাই নয়, ওই রাতে শাকিলের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের ভেতরে আটকে রাখা হয়।

‎পরবর্তীতে টাকা ও ডলার হস্তান্তরের পর শাকিল ও তার বন্ধুকে ছেড়ে দেওয়া হলেও তাদের সাথে থাকা ১৪টি মোবাইল ফোন আটকে রাখেন ওই পুলিশ কর্মকর্তারা। গাড়িটি পরে ফেরত দেওয়া হলেও জব্দ মোবাইলগুলো ফেরত দেয়ার বিনিময়ে এসি সুজন একটি আইফোন ও অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকা দাবি করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।