মঙ্গলবার

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩

গ্রাহকের সাথে প্রতারণায় ‘আঁখি সুপার শপ’এর পরিচালক আসমা শারমিন আঁখিকে স্বামীসহ গ্রেপ্তার

এস এম জাহাঙ্গীর, রাজশাহী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:১১

শেয়ার

গ্রাহকের সাথে প্রতারণায়  ‘আঁখি সুপার শপ’এর পরিচালক আসমা শারমিন আঁখিকে স্বামীসহ গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

একটি কিনলে একটি ফ্রি অথবা শতভাগ ক্যাশব্যাক’ প্রলোভন দেখিয়ে সিলেট থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া আলোচিত ‘আঁখি সুপার শপ’এর পরিচালক আসমা শারমিন আঁখিকে (৩২) স্বামীসহ অবশেষে রাজশাহীর বাগমারা থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার বছর চেষ্টা চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। আঁখির বিরুদ্ধে ১৫ টি ও স্বামীর বিরুদ্ধে দুইটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে৷

আসমা শারমিন আঁখিকে (৩২) উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের হাসনিপুর গ্রামের আশরাফ হোসেনের মেয়ে। তাঁর স্বামীর নাম জাহাঙ্গীর আলম (৩৭)। তিনি পাবনার বেড়া উপজেলার পুনডুরিয়া গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে।

সোমবার সকালে স্ত্রীকে রাজশাহীর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্বামীকে বেড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাগমারা থানার উপপরিদর্শক শিহাব উদ্দিন বলেন, গত ২০২২ সালে সিলেটে মামলা হওয়ার পর থেকে বাগমারা থানার পুলিশ গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে। তবে ধূর্ত প্রকৃতির। অন্যের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিম ব্যবহার করে গাজিপুরে অবস্থান করে। সেখানে 'এসএম ওয়েল মিলস' নামের একটি প্রতিষ্ঠান চালু করে অনলাইনে তেল বিক্রি শুরু করেন। এছাড়াও ওসমান গনি নামের একজন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত আরেকটি মোবাইল নম্বরে নগদ হিসাব খোলে টাকা লেনদেন করেন। পুলিশকে এড়িয়ে চলার সব ধরনের কৌশল অবলম্বন করেন তাঁরা। তবে পিরোজপুরের হাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ চালু করেন। ওই সূত্র ধরে সম্প্রতি নতুন করে অনুসন্ধান চালানো হয়। তাঁরা সাত মাস আগে রাজশাহী শহরে অবস্থান করছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়।

পরে বাগমারা থানার পুলিশ তথ্য, প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত শনিবার সকাল থেকে রাজশাহী শহরে অবস্থান করে। তবে তথ্য প্রযুক্তিকে হার মানিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেন কয়েক দফা। সবশেষ রোববার রাত সাড়ে নয়টায় রাজশাহী নগর থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, তাঁদের ২০২২ সাল থেকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়। তবে তথ্য প্রযুক্তিকে ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্নগোপন করে ছিলেন। পরিবারের লোকজন এবং স্বজনেরাও তথ্য গোপন রাখেন।

একাধিক এজাহারের কথা উল্লেখ করে বাগমারা থানার পুলিশ সাংবাদিকদের জানায়, অনলাইনে পেজের মাধ্যমে আসামিরা মিথ্যার আশ্রয়ে প্রলোভন দেখিয়ে ‘একটি পণ্য কিনলে একই পণ্য আরেকটি ফ্রি তথা শতভাগ ক্যাশব্যাক’ বলে প্রচারণা চালান। এ প্রচারণা দেখে প্রতারিতরা প্রলোভিত হয়ে বিভিন্ন পণ্য কেনার জন্য নগদ টাকার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দেন। এভাবে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা নেওয়া হয় গ্রাহকদের কাছ থেকে৷ এরপর পণ্য না দিয়ে গত ২০২২ সালে আঁখি সহযোগীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যান। এরপর প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে।

সিলেট শহরতলির বটেশ্বর গইলাপাড়া এলাকায় আঁখি সুপার শপ নামের প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় ছিল। প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে মোটরসাইকেলসহ নানা ধরনের পণ্যে ‘একটি কিনলে একটি ফ্রি বা শতভাগ ক্যাশব্যাক’ প্রচারণা চালাতেন। তবে গত ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ আছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রলোভন দেখিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাহকের ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা নিয়ে আসমা ও জাহাঙ্গীর পালিয়ে গেছেন।

প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নানা সময়ে ৯০ দিন ও ৩০ দিনের একাধিক প্যাকেজ অফার ফেসবুক পেজে জানানো হতো। এসব প্যাকেজে একটি পণ্য কিনলে আরেকটি পণ্য ফ্রি দেওয়া হতো।

এ অফারের মধ্যে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও গ্রোসারি পণ্য থাকত। এ অফারে অনেক গ্রাহক অংশ নিয়ে একটি পণ্য কিনে একই পণ্য আরেকটা বিনা মূল্যে পেয়েছেন। একইভাবে ২০২১ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানটি ‘একটি পণ্য কিনলে একই পণ্য আরেকটি ফ্রি তথা শতভাগ ক্যাশব্যাক’ শিরোনামে একটি অফার দিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালান৷

প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার পর সিলেটে প্রতারিত গ্রাহকেরা মামলা ছাড়াও নিয়মিত কর্মসূচি পালন করেন তাঁদের গ্রেপ্তারের দাবিতে। ওই সময়ে' একটি কিনলে একটি ফ্রি' প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা আত্নসাৎ সহ একাধিক নামে শিরোনামে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হয়। দেশ জুরে ঘটনাটি আলোচিত হয়েছিল।