সোমবার

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩

মৃত্যুর পর ধর্ম পরিচয়ের দ্বন্দ্ব অবশেষে ইসলামী রীতিতে দাফন

রবিউল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৩৪

শেয়ার

মৃত্যুর পর ধর্ম পরিচয়ের দ্বন্দ্ব অবশেষে ইসলামী রীতিতে দাফন
ছবি সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে, আদালতের নির্দেশে ও পুলিশি পাহারায় ধর্মান্তরিত শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে সম্পূর্ণ ইসলামী রীতি অনুযায়ী তাকে সেখানে দাফন করা হয়।

মৃত্যুর পর দ্বন্দ্বের সূত্রপাত

এর আগে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) গুলিতে নিহত হন বিল্লাল। তার মৃত্যুর পর শেষবিদায় সম্পন্ন করা নিয়ে তীব্র জটিলতা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নিহতের সনাতন ধর্মাবলম্বী বাবা হিন্দু রীতি অনুযায়ী ছেলের মরদেহ সৎকারের দাবি জানালেও, তার স্ত্রী, মা, ভাই ও বোন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন উল্লেখ করে, বিল্লালের মরদেহ ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফন করার পক্ষে অবস্থান নেয় তারা।

হাইকোর্টের নির্দেশ

এ ঘটনায় বিল্লালের স্ত্রী জ্যোতি হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মুহাম্মদ ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে বিল্লালের মরদেহ তার স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তর এবং তা ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী দাফন করার নির্দেশ দেন।

ধর্মান্তর ও পারিবারিক তথ্য

শুভর পরিবার জানায়, ২০০৩ সালের ২৬ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা এফিডেভিটের মাধ্যমে শুভ, তার মা পার্বতী রাণী দাস ও ভাই সজীব চন্দ্র দাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে শুভর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মো. বিল্লাল। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনাও করেছিলেন।

পরবর্তীতে রূপগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের মেয়ে জ্যোতিকে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে করেন বিল্লাল এবং এই দম্পতির একটি দুই বছর বয়সী সন্তান রয়েছে।

মায়ের দাবি

এদিকে, নিহতের মা আয়েশা বেগমের দাবি, তিনি সন্তান হারিয়ে এতিম হয়েছেন এবং তার দেড় বছরের নাতিকে যারা এতিম করেছে তাদের সর্বোচ্চ বিচার চান তিনি।

তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য

বিল্লাল হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার সাব-ইন্সপেক্টর জানিয়েছেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সব আইনি প্রক্রিয়া ও বিরোধের অবসান ঘটিয়ে ইসলাম ধর্মের রীতি ও শরিয়াহ অনুযায়ী শুভ'র মরদেহ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

আইনি জটিলতার কারণে, বিল্লালের মরদেহ পুলিশের তত্ত্বাবধানে হিমঘরে সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী স্ত্রী জ্যোতির নিকট হস্তান্তর করা হয় এবং সবশেষে কঠোর পুলিশি পাহারায় জানাজা সম্পন্ন করে মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হলো।