রবিবার

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩

সমবায় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কমিটি সদস্যদের মারধরের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৯

শেয়ার

সমবায় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কমিটি সদস্যদের মারধরের অভিযোগ
ছবি বাংলা এডিশন

সমবায় অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ-দুর্নীতি ও হয়রানির নজিরবিহীন অভিযোগ। খোদ সমবায় ভবনের ভেতরের সিন্ডিকেটের নির্দেশে নবনির্বাচিত কমিটির ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগ

ঘটনার পটভূমি দীর্ঘদিনের। কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি অ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেডে ২০১১ সালের পর এক যুগ কেটে গেলেও হয়নি কোনো এজিএম। অভিযোগ রয়েছে, অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে টাকা নিয়ে অবৈধভাবেই বহাল রাখা হয় আগের কমিটিকে।

এই অনিয়মের প্রতিবাদে সাইফুল ইসলাম নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নিলে তাঁর কাছে দাবি করা হয় ১০ লাখ টাকা ঘুষ। বিনিময়ে মিলবে বিশেষ সুযোগ, এমন শর্ত চাপায় চক্রটি।

দুদকে আবেদন ও গ্রেপ্তার

কমিটি জালিয়াতি আর ঘুষসহ নানা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুদকে আবেদন জানানো হলে, ২০২৫ সালের (১৬ জুন) ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন সমবায় অধিদপ্তরের পরিদর্শক শাহজাহান আলী, সরেজমিন তদন্ত কর্মকর্তা মনির হোসেন, সরকারি পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন। তবে পরে তারা জামিনে মুক্ত হন।

নির্বাচনে জয় ও পরবর্তী হামলা

এরপর শুরু হয় আইনি লড়াই। প্রতিপক্ষের দুটি দেওয়ানি মামলা আদালত খারিজ করার পর, মোহাম্মদপুর জোনের থানা সমবায় কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের কমিটির মাধ্যমে,(১৪ আগস্ট) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয় পায় সাইফুলের প্যানেল।

কিন্তু জয়ের পরদিন (১৯ আগস্ট) মিষ্টি ও কাগজপত্র নিয়ে অধিদপ্তরে গেলে শুরু হয় অরাজকতা। প্রবেশের পরই এডিসি নবীরুল ইসলাম, পিয়ন সেলিম, আলাউদ্দিন, তোফায়েল, ইলিয়াস শিকদার ও রিসিপশনিস্ট আলাউদ্দিনদের বিরুদ্ধে, অবরুদ্ধ করে হয়রানির অভিযোগ ওঠে। বাধ্য হয়ে ফোন করা হয় ৯৯৯-এ।

উদ্ধারের পর জেলা সমবায় কার্যালয়ে কাগজ জমা দিয়ে বের হতেই নেমে আসে অতর্কিত হামলা। জানা গেছে, সাবেক ডিজি শরীফ, এডিসি নবীরুল ইসলাম, জেলা সমবায় অফিসার শিহাব উদ্দিনসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল হামলা চালায়।

সুরক্ষা দিতে, পুলিশ সরকারি গাড়িতে তুলে নিলে ভাঙচুর চালানো হয় পুলিশের গাড়িতেও।

মামলা নথিভুক্ত ও তদন্তের অভিযোগ

প্রাথমিক অবস্থায় শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানালেও, পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে রবিবার (২৪ আগস্ট) থানায় হামলা সংক্রান্ত একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়।

মামলা হলেও প্রতিকার মিলছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোশাররফ আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সহযোগিতা করছেন বলে দাবি তাঁদের। ভুক্তভোগীরা আতঙ্কে থাকলেও প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে অভিযুক্তরা।

অন্যদিকে, অফিসে প্রবেশের সময় বাধা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই দিন দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারী।

এদিকে বহিরাগত অভিযুক্ত ওমর ফারুকের দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং কোনো মারামারির ঘটনা সম্পর্কে জানেন না।

অন্যদিকে, হামলার মূল অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি অভিযুক্ত এডিসি নবীরুল ইসলাম।

মামলার বর্তমান অগ্রগতি এবং অভিযোগের বিষয়ে জানতে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোশাররফের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তবে, সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরপরই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতেও, চেষ্টা করে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে মামলাটি তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সমবায় অধিদপ্তরের মতো স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানে এমন নজিরবিহীন হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত কি আদৌ হবে, নাকি আড়ালেই থেকে যাবে নেপথ্যের কুশীলবরা, এখন সেটিই দেখার বিষয়।