রবিবার

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩

সর্বশেষ
বিশ্বনেতাদের চোখে ‘উন্নত ভারত’ পর্দার আড়ালে বস্তি পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য-শিক্ষা ও যোগাযোগ জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার: র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার এক কলকাতার বারাসাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানায় চায়ের দোকান; সেই ডিগ্রিতে বাগেরহাটে চিকিৎসা আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফ‌রে যা‌চ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তা‌রেক রহমান ঝালকাঠিতে খয়রাবাদ নদীভাঙনে আতঙ্ক, স্থায়ী প্রতিরোধের দাবি ডা. মনীষা চক্রবর্তীর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

কলকাতার বারাসাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানায় চায়ের দোকান; সেই ডিগ্রিতে বাগেরহাটে চিকিৎসা

সাগর মন্ডল, বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৫৭

শেয়ার

কলকাতার বারাসাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানায় চায়ের দোকান; সেই ডিগ্রিতে বাগেরহাটে চিকিৎসা
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার বারাসাতের হেলাবটতলায় “THE OPEN INTERNATIONAL UNIVERSITY FOR COMPLIMENTARY MEDICINES” নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা ব্যবহার করা হলেও সরজমিনে বাংলা এডিশন এর অনুসন্ধানে গিয়ে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ওই ঠিকানায় গিয়ে একটি চায়ের দোকান দেখতে পাওয়া গেছে। সেখানে নেই কোনো সাইনবোর্ড, ক্যাম্পাস বা শিক্ষা কার্যক্রমের চিহ্ন। স্থানীয় বাসিন্দারাও এ নামে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান থাকার কথা জানেন না বলে জানিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি ব্যবহার করে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় চিকিৎসা দিচ্ছেন ডা. মাহামুদুল হাসান। উপজেলার পাঁচরাস্তা মোড়ে গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালের নিচতলায় চেম্বার করে তিনি রোগী দেখছেন বলে জানা গেছে। ব্যবস্থাপত্রে নিজেকে ‘এমবিবিএস এম’ এবং মেডিসিন, শিশু ও অর্থোপেডিক রোগে অভিজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তার চিকিৎসা কার্যক্রমের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) বৈধ অনুমোদন না থাকার বিষয়টি তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। এর আগে ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর তার চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাগেরহাটের সিভিল সার্জনকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। এরপরও তিনি কীভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এদিকে, ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে তার ডিগ্রি ও চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এছাড়া ভুয়া চিকিৎসক সংক্রান্ত একটি মামলায় ১৯ দিন কারাভোগের পর এলোপ্যাথিক ওষুধ না লেখার মুচলেকা দিয়ে জামিনে বের হয়ে পুনরায় চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করার অভিযোগও রয়েছে।

ডা. মাহামুদুল হাসানের ডিগ্রি ও চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মব সৃষ্টির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ডিবিসি নিউজ ও রুপালী বাংলাদেশ এর বাগেরহাট প্রতিনিধি সৈকত মন্ডল বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

এরপর কয়েকজন কথিত সাংবাদিক ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মূলধারার সাংবাদিকদের নিয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি ওই চিকিৎসককে দিয়ে সাংবাদিকদের স্ত্রীদের নাম উল্লেখ করে মামলা এবং সাংবাদিকদের হেয় করতে মানববন্ধন আয়োজনের অভিযোগও রয়েছে।

সাংবাদিকদের দাবি, ডিগ্রি ও চিকিৎসা কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করাই ছিল অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য। তবে অনুসন্ধানের পর মামলা, অপপ্রচার ও মানববন্ধনের ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

হেলা বটতলার স্থানীয় বাসিন্দা অমাল দাস বলেন, বারাসাতের হেলাবটলার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “THE OPEN INTERNATIONAL UNIVERSITY FOR COMPLIMENTARY MEDICINES” নামে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তারা কখনো শুনেননি। ওই ঠিকানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রমও তারা দেখেননি।

রাকেশ কান্তি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থাকলে তো ভবন, সাইনবোর্ড কিংবা শিক্ষার্থী-শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু এখানে আমরা চায়ের দোকান ছাড়া তেমন কিছু দেখিনি। আমরা চাই, বাংলাদেশের সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করুক এবং ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিক। কেউ যদি ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে বাংলাদেশে চিকিৎসা দিয়ে থাকে, তাহলে এতে শুধু রোগীরা প্রতারিত হচ্ছেন না, ভারতেরও সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

স্বপন কুমার পাল বলেন, কেউ যদি আমাদের এলাকার কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া সনদ তৈরি করে থাকে, সেটি তদন্ত হওয়া দরকার। আমরা চাই বাংলাদেশের সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিক। ভারতের নাম ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করলে দুই দেশেরই সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয় বিজিপি নেতা গিতিশ মৃধা বলেন, আমার জানামতে, বারাসাতে ‘THE OPEN INTERNATIONAL UNIVERSITY FOR COMPLIMENTARY MEDICINES’ নামে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই নেই। ভারতের নাম ও ভুয়া সার্টিফিকেট ব্যবহার করে কেউ যদি বাংলাদেশে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন, তাহলে এটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। বাংলাদেশের সরকারের উচিত দ্রুত তদন্ত করে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ.স. মাহবুবুল আলম বলেন, ভুয়া ডাক্তার মাহামুদুল হাসানের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বারাসাতের ঠিকানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে চায়ের দোকান পাওয়ার ঘটনায় এখন ডা. মাহামুদুল হাসানের ব্যবহৃত ডিগ্রির বৈধতা এবং বাংলাদেশে তার চিকিৎসা কার্যক্রমের অনুমোদন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ডা. মাহামুদুল হাসানকে নিয়ে গণমাধ্যমে অসংখ্যবার সংবাদ প্রকাশ সিভিল সার্জন এর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্পষ্ট নির্দেশনা তার কার্যক্রম নিষিদ্ধের এরপরেও বাগেরহাট প্রশাসন কেন নিরব।