রবিবার

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩

সর্বশেষ
বিশ্বনেতাদের চোখে ‘উন্নত ভারত’ পর্দার আড়ালে বস্তি পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য-শিক্ষা ও যোগাযোগ জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার: র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার এক কলকাতার বারাসাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানায় চায়ের দোকান; সেই ডিগ্রিতে বাগেরহাটে চিকিৎসা আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফ‌রে যা‌চ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তা‌রেক রহমান ঝালকাঠিতে খয়রাবাদ নদীভাঙনে আতঙ্ক, স্থায়ী প্রতিরোধের দাবি ডা. মনীষা চক্রবর্তীর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

নেত্রকোণায় ধান সংগ্রহে অনিয়মে গুদাম কর্মকর্তা বরখাস্ত, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বদলি

আরিফুল ইসলাম,কোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৩৭

শেয়ার

নেত্রকোণায় ধান সংগ্রহে অনিয়মে গুদাম কর্মকর্তা বরখাস্ত, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বদলি
ছবি: বাংলা এডিশন

নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন ও ধান সংগ্রহে অনিয়ম এবং একই ব্যক্তির কাছ থেকে একাধিকবার ধান সংগ্রহ করে বিল দেওয়ার অভিযোগে বিরিশিরি খাদ্য গুদামের (এলএসডি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্রের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে গত ৩১ আগস্ট মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্তের কথা জানানো হয়।

এদিকে গত ৯ সেপ্টেম্বর খাদ্য অধিদপ্তরের উপসচিব মোঃ মাহাবুর রহমান শেখের সই করা প্রজ্ঞাপনে নেত্রকোণার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানকে ঢাকা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত সহকারী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে পদায়ন করে বদলি করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে মোয়েতাছেমুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

খাদ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, মহাপরিচালকের টেলিফোনিক নির্দেশনার পর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিরিশিরি খাদ্য গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় ধান সংগ্রহে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়।

পরিদর্শন ও নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, কৃষি বিভাগ থেকে পাওয়া আগ্রহী কৃষকদের তালিকা সঠিকভাবে প্রণয়ন করা হয়নি। তালিকায় কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় তাদের যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই নাম একাধিকবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার তথ্যও পাওয়া যায়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়ছে, কৃষি বিভাগের প্রত্যয়ন নিয়ে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করার নিয়ম থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি। শুধু জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে এবং কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে কৃষক শনাক্ত না করেই ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী ইসলাম একটি সিন্ডিকেটের সহায়তায় ধান সংগ্রহ করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

রেজিস্টার ও কৃষি বিভাগের তালিকা পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা-২০১৭ লঙ্ঘন করে একই ব্যক্তির কাছ থেকে একাধিকবার ধান সংগ্রহ ও বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুর্গাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের যথাযথ তদারকি ছিল না বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, মেহেদী ইসলামকে বরিশালের উজিরপুরে বদলির আদেশ দেয়া হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যক্রম চলমান থাকায় তাকে চাকরিতে বহাল রাখা সমীচীন মনে করেনি কর্তৃপক্ষ। প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।

চলতি বছর নেত্রকোণায় সরকারি চাল নিয়ে অনিয়মের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। গত ১৪ মে রাতে মদন উপজেলায় পাচারের সময় ২০ টন চাল জব্দ করে প্রশাসন। এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও গুদাম কর্মকর্তাকে বরিশালে বদলি করা হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর একই উপজেলায় পাচারের সময় আরও ৫ টন সরকারি চাল জব্দ করা হয়। দুটি ঘটনায়ই থানায় মামলা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ২১ জুন কেন্দুয়া উপজেলায় ১৩ হাজার ৫১৫ কেজি সরকারি চাল জব্দ করেছিল সেনাবাহিনী।

বরখাস্ত হওয়া গুদাম কর্মকর্তা মেহেদী ইসলামের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদ থেকে বদলি হওয়া মোয়েতাছেমুর রহমান বলেন, ‘ধান সংগ্রহে অনিয়মের কারণেই গুদাম কর্মকর্তা মেহেদী ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’ নিজের বদলির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়মিত বদলিই মনে হচ্ছে। ওই ঘটনার সঙ্গে এই বদলির কোনো সম্পর্ক নেই।’