রবিবার

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩

সর্বশেষ
বিশ্বনেতাদের চোখে ‘উন্নত ভারত’ পর্দার আড়ালে বস্তি পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য-শিক্ষা ও যোগাযোগ জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার: র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার এক কলকাতার বারাসাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানায় চায়ের দোকান; সেই ডিগ্রিতে বাগেরহাটে চিকিৎসা আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফ‌রে যা‌চ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তা‌রেক রহমান ঝালকাঠিতে খয়রাবাদ নদীভাঙনে আতঙ্ক, স্থায়ী প্রতিরোধের দাবি ডা. মনীষা চক্রবর্তীর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

সিলেট আদালতের পেশকারের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ

মোহাম্মদ আব্দুল মুহিন,সিলেট প্রিতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৯

শেয়ার

সিলেট আদালতের পেশকারের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ
ছবি: বাংলা এডিশন

সিলেটের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) মো. মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দায়িত্বে অবহেলা, পেশাগত অসদাচরণ এবং বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কানন আলম।

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জুবায়ের বখত জুবের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে জানানো হয়েছে, আইনজীবী কানন আলমের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ তা অগ্রবর্তী করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমান মিজান কয়েক বছর ধরে একই আদালতে বেঞ্চ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে একটি ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তুলেছেন। অভিযোগে বলা হয়, বিভিন্ন মামলা ফাইলিং, নথি উপস্থাপন, সমন ও ওয়ারেন্ট জারি, জামিনের বেইলবন্ড, রিলিজ আদেশ এবং নকল শাখার বিভিন্ন কাজে দ্রুত স্বাক্ষর করিয়ে দেওয়ার নামে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।

এছাড়াও , Negotiable Instruments Act-এর অধীনে দায়ের করা সিআর মামলা ফাইলিংয়ের সময় ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। অভিযোগকারীর দাবি, চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে মামলা ফাইলিংয়ে বিলম্ব করা বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা গ্রহণ না করার মতো ঘটনা ঘটে। এ ধরনের আর্থিক লেনদেনের সত্যতা মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যাংক হিসাব ও ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব।

এছাড়া কোনো দরখাস্ত দাখিলের সময় ২০০ থেকে ৬০০ টাকা, বেইলবন্ড দাখিলের সময় ৫০০ টাকা এবং রিলিজ আদেশ দ্রুত সম্পাদনের জন্য আরও ৭০০ টাকা নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ঘুষ না পেলে আদালতের বিচারক ব্যস্ত, নামাজে, খাবার খাচ্ছেন, মিটিংয়ে আছেন কিংবা নথি টেবিলে রয়েছে—এমন বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কাজ বিলম্বিত করা হয়।

এছাড়াও মামলার নথি ও সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে আসামিকে খালাস বা অব্যাহতি কিংবা প্রবেশন দেওয়ার কথা বলে ৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত চুক্তির অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে অর্থের বিনিময়ে মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ, প্রসেস আটকে রাখা এবং সাজা পরোয়ানা সংক্রান্ত কাজেও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আইনজীবী কানন আলমের দাবি, এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালত প্রাঙ্গণের সিসিটিভি ফুটেজ, মামলা রেজিস্টার, নথি, আদেশ ও সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য পরীক্ষা করলে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ, গোপন ও প্রকাশ্য তদন্ত এবং গণশুনানির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

অভিযোগে পেশকার মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনেরও দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে তার ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব, এফডিআর, জমি, বীমা ও অন্যান্য সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের দাবী জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে মিজানুর রহমান মিজানের পাশাপাশি সিলেটের সিএমএম আদালতের পেশকার মোহাম্মদ আলীসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

এবিষয়ে আইনজীবী কানন আলম বলেন, আদালত অঙ্গনে দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি অভিযোগকারী আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী ও বিচারপ্রার্থীদের বিচারিক হয়রানি না করা দাবি জানাই।

এবিষয়ে অভিযুক্ত পেশকার কিংবা আদালত সংশ্লিষ্ট কারো বক্তব্য পাওয়া পাওয়া যায়নি।