রবিবার

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩

উজানের ঢলে রাজশাহীতে বিষধর সাপ, আতঙ্কে পানিবন্দি মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২৮

শেয়ার

উজানের ঢলে রাজশাহীতে বিষধর সাপ, আতঙ্কে পানিবন্দি মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে রাজশাহীতে বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি। এরই মধ্যে নদীর কয়েকটি চর প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বিষধর সাপের আতঙ্ক। পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ স্থলভাগের দিকে উঠে এসে লোকালয়ে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে।

রাজশাহী নগরীর পদ্মা নদীর তীরবর্তী সীমান্ত অবকাশ এলাকাতেও দেখা মিলেছে বিষধর রাসেল ভাইপারের। স্থানীয়দের দাবি, নদীর পানি বাড়ায় স্থলভাগের খোঁজে সাপগুলো লোকালয়, এমনকি মানুষের ঘরবাড়িতেও ঢোকার চেষ্টা করছে। এতে পদ্মাপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আশপাশের সব জায়গায় পানি। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সাপ আসছে। পানির কারণে তাদের খুব কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।

আরেক বাসিন্দা বলেন, পানির মধ্যে তারা খুব কষ্টে আছেন। রাতে সাপের কামড়ের ভয়ে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছেন না।

স্থানীয়রা জানান, পদ্মার পানি বাড়ার কারণে নদীতে থাকা রাসেল ভাইপারসহ বিভিন্ন বিষধর সাপ পানির স্রোতে ভেসে আসছে। তাদের ভাষ্য, কয়েক দিন আগেও এলাকায় এ ধরনের সাপের দেখা মেলেনি। নদীর পানি বাড়ায় নিচু জায়গায় থাকা সাপগুলো এখন উঁচু ও অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানের দিকে উঠে আসছে।

গত কয়েক দিনে পদ্মাপাড়ের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিষধর রাসেল ভাইপার সাপ দেখেছেন স্থানীয়রা। পানির স্রোতে ভেসে এসে বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকা এসব সাপ এখন বাসিন্দাদের জন্য নতুন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় এক কিশোর বলেন, পানির মধ্য থেকে অনেক বড় একটি সাপ আসতে দেখেন তিনি। প্রথমে সাপটি কী, তা বুঝতে পারেননি। পরে ঘাটের কাছে এসে সাপটি পড়ে থাকলে সেটিকে মেরে ফেলা হয়। এরপর সেটি রাসেল ভাইপার বলে শনাক্ত করা হয়।

এক নারী বলেন, অনেক বড় একটি সাপ দেখেছেন তিনি। সেটিকে মারার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত কোন দিকে চলে গেছে, তা আর দেখা যায়নি।

আরেক বাসিন্দা বলেন, এলাকার সবাই এখন আতঙ্কের মধ্যে আছেন। নদী ও পুকুরে থাকা সাপগুলো পানি বাড়ার কারণে ওপরের দিকে উঠে আসছে। সেখান থেকে আবার লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, রাজশাহী শহরের পাশের ভারত সীমান্তঘেঁষা চর খিদিরপুর ও খানপুরসহ পদ্মার ওপারের সব চরই পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শাহিদুল ইসলাম বলেন, পানিবাহিত রোগ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য পানিবন্দি মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। হঠাৎ বন্যার ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে।

এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাপের বিষের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে। সাপে কাটা রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।