পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ দেয়া ১০ লাখ টাকা রাজনৈতিক দলের প্রভাবের কারণে প্রায় চার মাস আটকে থাকার অভিযোগ করেছেন নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আল ফারুক আব্দুল লতিফ। তাঁর অভিযোগ, বরাদ্দের অর্থের একটি অংশ তালিকা ছাড়া একটি রাজনৈতিক দলকে দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়।
শনিবার দুপুরে নীলফামারী প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব অভিযোগ করেন সংসদ সদস্য।
আলফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, দুস্থ মানুষের জন্য দুই ঈদে ১০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঈদুল ফিতরের বরাদ্দ বিতরণের সময় ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাছে অর্ধেক টাকা দাবি করেন। তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয় বলে দাবি করেন তিনি।
সংসদ সদস্যের ভাষ্য, পরে ওই পক্ষকে নিজেদের তালিকা দিতে বলা হলেও তারা তালিকা দিতে রাজি হয়নি। একপর্যায়ে তাদের চাপে চার লাখ টাকা দিতে হয়। বাকি ছয় লাখ টাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে অসহায় মানুষের তালিকা অনুযায়ী বিতরণ করা হয়।
আলফারুক আব্দুল লতিফ আরও বলেন, ঈদুল আজহায়ও একইভাবে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তালিকা ছাড়া কোনো টাকা দেয়া হবে না। কিন্তু আগের সেই পক্ষ (ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী) এবারও অর্ধেক টাকা দাবি করে। দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কে ব্যবহার করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এমপি বলেন, টাকা উত্তোলন ও বিতরণের জন্য তালিকা নিয়ে গেলে ইউএনও তাঁকে ওই পক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করে আসতে বলেন। পরে বিষয়টি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি দেন তিনি। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইউএনওকে দ্রুত বরাদ্দের টাকা ছাড়ের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয় বলে জানান তিনি।
সংসদ সদস্যের দাবি, এরপর তালিকা নিয়ে ইউএনওর কাছে গেলে তাঁকে দুই লাখ টাকা আলাদা রাখার কথা বলা হয়। ওই অর্থ একটি পক্ষের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী বিতরণের নির্দেশনাও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। তখন নিজের তালিকায় সব দলের মানুষের নাম রয়েছে জানিয়ে তা যাচাইয়ের অনুরোধ করেন আল ফারুক আব্দুল লতিফ। পরে তাঁর তালিকা অনুযায়ী বরাদ্দের টাকা বিতরণের অনুমতি দেওয়া হয়।
সংসদ সদস্য জানান, ইতোমধ্যে বরাদ্দের ১০ লাখ টাকার পুরো অর্থই বিতরণ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোবাশ্বিরা আয়াতুল্লাহর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন:







