শনিবার

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৮ ভাদ্র, ১৪৩৩

‎চাঞ্চল্যকর ময়না হত্যাকাণ্ডের ১৪ মাস, তদন্তেই থমকে আছে মামলার অগ্রগতি

‎‎আতিকুল ইসলাম,সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:২৫

শেয়ার

‎চাঞ্চল্যকর ময়না হত্যাকাণ্ডের ১৪ মাস, তদন্তেই থমকে আছে মামলার অগ্রগতি
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে আলোচিত শিশু মাইমুনা আক্তার ময়না হত্যাকাণ্ডের ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো উদ্ঘাটন হয়নি হত্যার রহস্য। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা। নিহত ময়না উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের হাবলীপাড়া এলাকার প্রবাসী আব্দুর রাজ্জাক মিয়া-র মেয়ে।

‎গতবছরের নিখোঁজের একদিন পর বাড়ির পাশের মসজিদের দোতলা থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ময়নার বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তে জানা যায়, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে তাকে। ঘটনার পর স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে ময়নার শরীরে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে তাদের ডিএনএর কোনো মিলও পাওয়া যায়নি।

‎ময়না হত্যাকাণ্ডের নৃশংস সে-ই ঘটনা মুহুর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পরলে দোষীদের বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমে আসে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ময়নার পরিবারকে বিনামূল্যে ন্যায় বিচার পেতে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজকোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী ও সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপু।

‎রহস্যের বেড়াজাল থেকে সত্য উদঘাটনে তৎপর হয়ে পরে সরাইল থানা পুলিশ, পুলিশের বিশেষ ইউনিট পিবিআই পুলিশের একটি চৌকস টিম ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। প্রথম তিন মাস মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সরাইল থানার পুলিশ। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

‎এদিকে ময়না হত্যাকাণ্ডের দ্রুত সময়ের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে গত (২৭ জুলাই) সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন

‎ময়নার মা লিপা আক্তার, কাউসার মিয়া, সেলিম মিয়া ও নোমান ভূঁইয়া।

‎এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাঈদ বরাবর একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দিয়েছে ময়নার মা লিপা আক্তার। লিখিতপত্রে তিনি দ্রুত তদন্তের কাজ সম্পন্ন, ডিএনএ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায় বিচার প্রাপ্তির নানা দাবি উল্লেখ করেন৷

‎মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের পরিদর্শক বেলাল উদ্দিন বলেন, শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ৪০ জনের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের ফলাফল পাওয়া গেছে। এদের কারও সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।