মানিকগঞ্জের ঘিওরে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাসুম (২৫) নামে এক যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে বড়টিয়া ইউনিয়নের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রনি আহম্মেদ ও তাঁর দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের শ্রীবাড়ি মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাসুমকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রনি আহম্মেদ ও তাঁর দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে মাদক বিক্রি করে আসছেন। মাদক বিক্রিতে মাসুমসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেওয়ায় তাঁদের সঙ্গে রনি ও তাঁর ভাইদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই শুক্রবার সকালে রনির বাড়ির সামনে মাসুমের ওপর হামলা চালানোয় বলে অভিযোগ উঠে।
আহত মাসুমের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তাঁর মাথা ও কোমরে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
মাসুমের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রনি আহম্মেদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশ জানায়, মারধরের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—রনির বাবা আবুল হোসেন (৫০), মা পারুল বেগম (৪২) ও রনির স্ত্রী ফাতেমা বেগম (১৯)। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,মাসুমকে মারধরের ঘটনায় রনি আহম্মেদ (২৫) ও তাঁর ভাই সোহেল রানা (২৭)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের বাবা আবুল হোসেন। এ ছাড়াও ঘটনার সঙ্গে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের সংশ্লিষ্টতার তথ্যও পুলিশের নথিতে রয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মারধরের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”
এছাড়াও মাসুমকে মারধরের অভিযোগের পাশাপাশি এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে রনির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটিও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান ওসি।
আরও পড়ুন:







