শনিবার

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১ আশ্বিন, ১৪৩৩

হু হু করে বাড়ছে পদ্মার পানি, বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৬

শেয়ার

হু হু করে বাড়ছে পদ্মার পানি, বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই
ছবি সংগৃহীত

উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ এবং ফারাক্কা ব্যারেজের সবকটি গেট খুলে দেওয়ায় রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। গত তিন দিনে রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানি প্রায় দুই মিটার বেড়েছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষণে জানা গেছে। এতে নদীর চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহীতে পদ্মার পানি ১৭ দশমিক ২৬ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। ১৮ দশমিক ৫ মিটারে পৌঁছালেই তা বিপৎসীমা অতিক্রম করবে।

ইতোমধ্যে মাঝচর, আষাড়িয়াদহ, খিদিপুরসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন নিচু জায়গা পানিতে তলিয়ে গেছে। নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পানি আরও বাড়লে চরাঞ্চলের বসতি, কৃষিজমি ও নদীনির্ভর মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়তে পারে।

নগরীর খরবোনা এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে নদীর পানির উচ্চতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। বিশেষ করে গত তিন দিনে দ্রুত পানি বাড়ায় নদীর পাড়ের খরবোনা, পঞ্চবটি, শ্রীরামপুর এলাকাসহ চরাঞ্চলের অনেক জায়গা পানিতে ডুবে গেছে।

নদীতীরবর্তী এলাকায় বন্যার আশঙ্কা

পদ্মার পানি এভাবে বাড়তে থাকলে রাজশাহী শহর ও জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা বাড়তে পারে। পানি আরও বাড়লে চরাঞ্চলের মানুষ ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে নদীভাঙনের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর জানান, নদী পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাসের তথ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

পদ্মার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে রাজশাহীর নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা আরও বাড়বে।

ফারাক্কার সব গেট খোলার খবর

এদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর ফারাক্কার সব গেট খোলার খবর প্রকাশিত হয়। উজানে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অতিরিক্ত পানি দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই গেটগুলো খোলা হয়েছে।

ফারাক্কা ব্যারেজ গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত। এর ১০৯টি গেটের মধ্যে ১০৮টি নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং একটি নিচু ভূমির পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত। ফারাক্কা থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের পর গঙ্গার এই প্রবাহই পদ্মা নামে পরিচিত।