জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন এক সন্তানের জননী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সিয়াম তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করেছেন। সম্পর্ক তৈরির পরে তাকে বিয়ে না করে অন্য যায়গায় বিয়ে করে নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলে এ অবস্থানের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে প্রেমিক সিয়ামের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন নামের ওই নারী। সাবিনা ইয়াসমিন উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মিনি গাড়ি গ্রামের শফিকুলের স্ত্রী বলে জানা গেছে৷
শুক্রবার সকাল ১০ টায় দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিয়ামের বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন সাবিনা ইয়াসমিন। এ সময় আশপাশের প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন। ঘটনায় প্রেমিক সিয়াম ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে সিয়াম তাকে বিয়ে না করলে তিনি আত্মহত্যা করবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেয়া সাবিনা ইয়াসমিন।
ওই নারী জানান, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সিয়াম তার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছে। একপর্যায়ে সে তার ঘরেও আসা-যাওয়া করত। একদিন তার প্রতিবেশী তাকে ঘরে দেখে ফেলেন৷ তখন সিয়াম তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। এরপরও সে তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখে। তিনি আরও বলেন, হঠাৎ জানতে পারি, সিয়াম অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করতে প্রবাসী সদরুল আলমের মেয়ের বাড়িতে গেছে। এ খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে আমি সিয়ামের বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছি। সিয়াম না আসা পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না। আমাকে বিয়ে না করলে আমি আত্মহত্যা করব।
সাবিনা ইয়াসমিন জানান তার বিবাহিত সংসার প্রায় সাড়ে ছয় বছরের তাদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁর স্বামী একটি এনজিওতে চাকরি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হিন্দা এলাকার আব্দুল লতিবের ছেলে মোঃ সিয়াম । মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি গ্রামে মরহুম মোজা ব্যাপারীর নাতি সে তার নানার বাড়িতে বসবাস করেন। প্রতিবেশী সূত্রে তাঁদের মধ্যে পরিচয়ের পর গত প্রায় দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সিয়ামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় বিএনপি নেতা সাকিলুর রহমান তালুকদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা সম্ভব হচ্ছে না৷
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুক্তারুল আলম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। স্থানীয়ভাবে সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন:







