শনিবার

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১ আশ্বিন, ১৪৩৩

১৩ বছর পর দখলমুক্ত সরকারি কোয়ার্টার, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল দেড় লাখ

আব্দুল মুহিন,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:১৫

শেয়ার

১৩ বছর পর দখলমুক্ত সরকারি কোয়ার্টার, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল দেড় লাখ
ছবি: বাংলা এডিশন

অবশেষে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের সরকারি কোয়ার্টার ছেড়ে দিয়েছেন শাহীনুর কামাল শাহীন। সরকারি চাকরিজীবী না হয়েও প্রায় ১৩ বছর কোয়ার্টারে বসবাসের অভিযোগ ওঠা শাহীন গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে মালামাল নিয়ে চলে যান।

বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাদ বিন জাহাঙ্গীর। তিনি জানান, শাহীন কোয়ার্টার ছেড়ে চলে গেছেন।

তবে পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন বসবাসকালে ব্যবহৃত বিদ্যুতের প্রায় দেড় লাখ টাকা বকেয়া বিল পরিশোধ না করেই তিনি কোয়ার্টার ছেড়েছেন। বকেয়া বিল কে বা কীভাবে পরিশোধ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দীর্ঘদিনের বকেয়া ঠেকাতে গত জুলাইয়ের শেষ দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে ওই কোয়ার্টারে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়। ফলে বর্তমানে রিচার্জের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে শাহীনকে নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে সরকারি চাকরিজীবী না হয়েও সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কাজে প্রভাব বিস্তার এবং সরকারি সেবা নিয়ে দালালির অভিযোগ উঠে আসে। দুটি কোয়ার্টারের একটি পরিবার নিয়ে বসবাস এবং অন্যটি গাড়ির গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহার করতেন তিনি।

এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের একটি কক্ষ ব্যবহার করে জন্মনিবন্ধন সংশোধন, নাম-ঠিকানা ও বয়স পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিয়ে অর্থ নেয়ার অভিযোগ করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে।

বর্তমান ইউএনও আব্দুল্লাহ আবু জাহের দায়িত্ব নেয়ার পর শাহীনকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও দখলে রেখেছিলেন কোয়ার্টার। সর্বশেষ ৯ সেপ্টেম্বর তিনি সরকারি কোয়ার্টার ছেড়ে চলে যাওয়ায় দীর্ঘদিনের দখলের অবসান হলেও বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহের জানান, তিনি আসার তাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর পাশাপাশি বাসা ছাড়ার নির্দেশ দেন। এছাড়াও তার সময়কালে কোন বিল বকেয়া নেই। তবে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ের বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

সরকারি কোয়ার্টারে দীর্ঘদিন বসবাস এবং বিপুল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দায় নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।