ভালো কাজের লোভ দেখিয়ে বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণার শিকার হয়ে সৌদি আরবে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন জীবননগরের বেশ কয়েকজন সহজ-সরল যুবক। পেয়ারাতলা কাজীপাড়ার সৌদি প্রবাসী মো. নাজমুল হোসেনের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন তারা। মাত্র দুই বছর আগে সৌদিতে যাওয়া এই দালাল জীবননগর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভুয়া আশ্বাসে দেশটিতে নিয়ে গেলেও কাউকেই দিতে পারেনি কোনো স্থায়ী কাজ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নাজমুল হোসেনের সাথে চুক্তি ছিল সৌদি যাওয়ার এক মাসের মধ্যে কাজ পাইয়ে দেয়ার। এমনকি দেশ ছাড়ার আগে নাজমুলের পরিবারের সাথে কথা বললে তারাও যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন। অথচ প্রবাসে পৌঁছানোর পর থেকেই পাল্টে যায় চিত্র। নাজমুল তো বটেই, তার দেশের বাড়ি থাকা পরিবারও এখন আর কোনো খোঁজখবর নিচ্ছে না, এড়িয়ে চলছে সব ধরনের যোগাযোগ।
অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা গেছে, দালাল নাজমুল চারজনকে ১০ থেকে ১৫ হাজার রিয়ালে ভিন্ন ভিন্ন কফিলের (মালিক) কাছে বিক্রি করে দিয়েছে! শুধু জীবননগরের পেয়ারাতলা এলাকার ভুক্তভোগী মো. অমি ও এক বছর ধরে কাজ না পেয়ে ঘুরে বেড়ানো হৃদয়সহ আরও বেশ কয়েকজন যুবকের সাথে এই অমানবিক প্রতারণা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজন ইতিমধ্যে আইনি মামলায় পড়ে চরম বিপাকে আছেন। চুক্তি অনুযায়ী লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা থাকলেও তা না দেয়ায় যুবকরা বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে টাকা এনে নিজের খরচে লাইসেন্স করেছেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. অমি জানান, "নাজমুল আমাদের বলেছিল এক মাসের মধ্যে ভালো কাজ দেবে। কিন্তু ছয় মাস ধরে আমাদের শুধু ঘুরিয়েছে। পরে সে আমাদের চারজনকে ১০ থেকে ১৫ হাজার রিয়ালে কফিলের কাছে বিক্রি করে দেয়। কফিলের সাথে টাকার ঝামেলা হওয়ায় সেই কফিল আমাদের দুই মাস ধরে কোনো খাবার খরচ দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে টাকা এনে খাচ্ছি। কাজ করলেও আমাদের কোনো বেতন দেওয়া হয়নি।"
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কফিলের কাছে মানবপাচারের শিকার হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে এসব প্রবাসী অমির। কাজের বকেয়া বেতন তো দূরের কথা, গত দুই মাস ধরে কফিল কোনো খাবার খরচও দিচ্ছে না। উল্টো দালালের ফাঁদে আটকে থাকায় ওই কফিলের কবল থেকে বের হতেও পারছেন না তারা। ফলে পেটের দায়ে পরিবার থেকে টাকা আনিয়ে চলতে হচ্ছে তাঁদের।
এদিকে অভিযুক্ত প্রবাসী মো. নাজমুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন।
দালাল নাজমুলের মিথ্যা আশ্বাসে জীবননগর থেকে সৌদি গিয়ে আজ সর্বস্বান্ত যুবকেরা। কাজ নেই, বেতন নেই, উল্টো পরবাসে বন্দিদশা। এই বিষয়ে জড়িত দালাল ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর।
আরও পড়ুন:







