শনিবার

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১ আশ্বিন, ১৪৩৩

ওয়াকফ এস্টেটের প্রধান নায়েবে-মোতাওয়াল্লী সোহেল খান বরখাস্ত

সবুজ এইচ সরকার, সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৫

শেয়ার

ওয়াকফ এস্টেটের প্রধান নায়েবে-মোতাওয়াল্লী সোহেল খান বরখাস্ত
ছবি সংগৃহীত

ওয়াজেদ আলী খান পন্নী ওয়াকফ এস্টেটের (ইসি নং-১১৯৮) প্রধান নায়েবে-মোতাওয়াল্লী মো. সোহেল খানকে দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরখাস্ত সংক্রান্ত আদেশটি ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ডায়েরি নং-৬৯৬৫ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

দাপ্তরিক আদেশে সোহেল খানকে ওয়াকফ এস্টেটের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি এস্টেটের সম্পত্তি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জমি ও আর্থিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার এখতিয়ার নেই

সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথির তথ্য অনুযায়ী, বরখাস্তের পর মো. সোহেল খানের ওয়াজেদ আলী খান পন্নী ওয়াকফ এস্টেটের জমি বিক্রি, বায়না, নাদাবি, জমি সংক্রান্ত সমঝোতা কিংবা ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বিল উত্তোলনের মতো কোনো কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার এখতিয়ার নেই।

এস্টেট-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন কিংবা জমি সংক্রান্ত চুক্তির ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার কথা জানানো হয়েছে।

বরখাস্তের আদেশের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, ভূমি অধিগ্রহণ শাখা (এলএ) এবং অন্যান্য প্রশাসনিক দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, বগুড়া, পাবনা, নাটোর, নওগাঁ, রাজশাহী ও দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলার নাম রয়েছে।

সিরাজগঞ্জে জমি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

সোহেল খানের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জে ওয়াকফ এস্টেটের জমি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সোহেল খানের প্রতিনিধি হিসেবে জহির রায়হান জনি বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনবিহীনভাবে অফিস পরিচালনা এবং জমি সংক্রান্ত কাগজপত্র ব্যবহারের মাধ্যমে কথিত ভুয়া বায়না করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এছাড়া সিরাজগঞ্জে ওয়াকফ এস্টেটের জমি সংক্রান্ত লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি, জমির দলিল, আর্থিক লেনদেনের কাগজপত্র এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হস্তক্ষেপ করলে আইনগত ব্যবস্থার সতর্কতা

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বরখাস্ত হওয়া সোহেল খান কিংবা তার কোনো প্রতিনিধি ওয়াজেদ আলী খান পন্নী ওয়াকফ এস্টেটের জমি বিক্রি, বায়না, নাদাবি, নথিপত্র বা অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বিল সংক্রান্ত কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এস্টেটের নামে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সোহেল খানের সঙ্গে জমি কিংবা আর্থিক লেনদেন করলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট পক্ষকেই বহন করতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন

ওয়াকফ এস্টেটের সম্পত্তি, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ এবং কথিত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগগুলো নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিশেষ করে সিরাজগঞ্জে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের ক্ষেত্রে কারা অর্থ নিয়েছে, কোন জমির বিপরীতে লেনদেন হয়েছে, বায়না বা দলিলের বৈধতা কী এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ কোথায় গেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সোহেল খান ও তার প্রতিনিধি জহির রায়হান জনির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।