পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের ভয়াল থাবায় হাজিরহাট জামে মসজিদের পশ্চিম-উত্তর পাশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বিলীন হয়েছে ২০টি কবর।
মঙ্গলবার সন্ধার পরে এই তীব্র ভাঙ্গন দেখা যায়। এ সময় তাৎক্ষণিক পরিদর্শন করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মোঃ মাহমুদ হাসান মৃধা ও দশমিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো: আতিকুল ইসলাম।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সন্ধার পরে হাজিরা লঞ্চ ঘাটের পশ্চিম উত্তর পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়কে রক্ষায় ফেলা শতাধিক জিওব্যাগ ধসে পড়ার পাশাপাশি সংলগ্ন পাকা সড়কের পিচ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে মসজিদটিসহ পুরো বাজার এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ধারণা করা গেছে রাতের মধ্যে পাকা সড়কের দুই পাশে সংযোগ নদীতে ভিলেন হলে কমপক্ষে তেঁতুলিয়া নদীর জোয়ারের পানিতে প্রায় দশ হাজার পরিবার প্লাবিত হতে পারে। এর আগে গত কয়েকদিন ধরে নদীতে পানির চাপ ও তীব্র স্রোতের কারণে হাজিরহাট লঞ্চঘাট ও মসজিদ সংলগ্ন এলাকার পাড়ে ধস শুরু হয়েছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডাম্পিং করা জিওব্যাগ স্রোতের টানে তলিয়ে যাচ্ছে এবং সড়কের কার্পেটিং খসে পড়ছে। ফলে যাতায়াতব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পুরো এলাকা এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দ্রুত কার্যকর ও টেকসই নদী শাসন বা রক্ষাবাঁধের ব্যবস্থা না করা হলে উপজেলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হাজিরহাট বাজার ও প্রাচীন এই মসজিদটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। দ্রুত জিওব্যাগ ডাম্পিং জোরদার এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট পাউবো (পানি উন্নয়ন বোর্ড) ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
এ সময় নদী বিলীন হওয়া ভয়ে ভাঙ্গা সড়কের পশ্চিম বাসিন্দা নিজামুদ্দিন জানান, আজ রাতের মধ্যে আমাদের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যেতে পারে। আমার কোন থাকার জায়গা নাই। তাৎক্ষণিক মায়ের স্থানীয় লোকজন নিয়ে মালামাল সরিয়ে ফেলেছি। রাতে কোথাও একটি বাড়িতে স্থান নেব। এরপর দিনের বেলায় এসে আমার বাবা খলিল মিয়া গত বছর আগে মারা গেছে ও আমার দাদার খবর এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে বাড়ির ভিতরে পারিবারিক কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হবে। এছাড়াও সন্ধ্যা বেলার তীব্র ভাঙ্গনে প্রায় ২০টি কবর নদীতে বিলীন হয়েছে। সেগুলো রক্ষা করতে পারিনি। আমরা আপনাদের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন ও সরকারকে এই ভাঙ্গন ঠেকাতে পদক্ষেপ অনুরোধ জানাচ্ছি। তোরে তো পদক্ষেপ না নিলে রাতের মধ্যে নদীর জোয়ারের পানিতে ঘরবাড়ি ও দশ হাজার মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
এ সময় ওই এলাকার ভাঙ্গনের মুখে ঘরবাড়ি গৃহবধূরা জানান, আমাদের এই ভাঙ্গনের পরে থাকার কোন জায়গা নাই। জানিনা এই রাতটা কিভাবে কাটবে। আমাদের আত্মীয়-স্বজন কবর ভিলেন হয়েছে। রাতের মধ্যে ঘর বাড়ি ভেঙে যেতে পারে। তাই আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সাহায্যের আবেদন জানাই। আমাদের ভিটাবাড়ি সব শেষ।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আশি। এখানে এসে যা দেখলাম রাতের মধ্যে নদীর তীব্র স্রোতে বাকি সড়কের সংযোগ ভেঙে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
তিনি আরো বলেন, এই টাইমে তাৎক্ষণিক পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ড উদ্ধতম কর্মকর্তাদের অবহিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরঞ্জাম নিয়ে কাজ শুরু করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙ্গরের পাশের অসৎ বাড়ির থেকে কিছুসংখ্যক পরিবারকে সরিয়ে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ সাইক্লোন সেন্টারে আশ্রয় নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:







