ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে সাত দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে তীব্র গরমে নামাজ আদায় করতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন মুসল্লিরা। বিদ্যুৎ না থাকায় মসজিদের পাখা, এসি, আলো ও মাইক বন্ধ রয়েছে। একই কারণে পানির পাম্পও চালু না থাকায় অজুর পানির ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।
মসজিদটিতে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। শুক্রবার জুমার নামাজে মুসল্লির সংখ্যা ৬০০ থেকে ৭০০ ছাড়িয়ে যায়। নারী মুসল্লিরাও নিয়মিত এখানে নামাজ পড়তে আসেন। বিদ্যুৎ ও পানির সংকটে নামাজের সময় তাঁদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
জেনারেটর কক্ষ থেকে বিকট শব্দের পর বিদ্যুৎ বন্ধ
মসজিদের খাদেম মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জেনারেটর কক্ষ থেকে হঠাৎ বিকট শব্দ আসে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেন। পরে সেখানে গিয়ে ব্রেকারসহ কয়েকটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর থেকে মসজিদের ভেতরের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
দেলোয়ার হোসেন জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় মসজিদে অজুর পানির ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মীদের প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে থেকে বালতিতে করে পুকুরের পানি এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি আলি হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মসজিদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গরমের কারণে মুসল্লিদের কষ্ট হচ্ছে। অজুর পানি না থাকায় নামাজের আগে অনেককে মসজিদের বাইরে গিয়ে অজু করতে হচ্ছে।
মুসল্লি মো. সরোয়ার হোসেন তালুকদার জানান, মসজিদে অজুর পানি না থাকায় অনেক সময় বাইরে গিয়ে অজু করতে হয়। এতে জামাত শুরু হয়ে যাওয়ায় অনেকেই জামাতে অংশ নিতে পারেন না।
মসজিদ পরিদর্শন করেছেন গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী
বিদ্যুৎ সমস্যার কারণ জানতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) গণপূর্ত বিভাগের একজন বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মসজিদটি পরিদর্শন করেছেন। মসজিদটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। তাই অভ্যন্তরের বৈদ্যুতিক সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রাজাপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আতাউর রহমান বলেন, খুঁটি থেকে মিটার হয়ে মেইন সুইচ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রয়েছে। মেইন সুইচের পর মসজিদের অভ্যন্তরের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় সমস্যা হলে সেটি তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁদের বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মসজিদটি পরিদর্শন করে গেছেন। ভেতরের কিছু যন্ত্রাংশ পড়ে যাওয়ার বিষয়টি তাঁরা জানিয়েছেন। সমস্যা সমাধানে কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানানো হয়েছে।
দ্রুত বিদ্যুৎ ও অজুর পানি চালুর দাবি
মুসল্লিদের দাবি, দ্রুত মসজিদের বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর পাশাপাশি অজুর পানির ব্যবস্থাও স্বাভাবিক করা হোক।
আরও পড়ুন:







