অসহায় মানুষের ভরসার শেষ আশ্রয় হওয়ার কথা ছিল একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র। অথচ সেখানে নেই বিদ্যুৎ, নেই নিরাপদ ভবন। তীব্র গরমে ঘেমে-নেয়ে এক কক্ষে বসে সেবা দিচ্ছেন একজন স্বাস্থ্যকর্মী, আর রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন হতাশা নিয়ে। স্বাধীনতার এত বছর পরও নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র যেন উন্নয়নের আলো থেকে বঞ্চিত এক নীরব জনপদ।
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র প্রায় এক যুগ ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সীমিত জনবল নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হলেও বিদ্যুতের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সেবাগ্রহীতা ও কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক-দুই বছর নয়, প্রায় ১২ বছর ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। ফলে দিনের আলো কমে এলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। পাশাপাশি ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ক্ষয় দেখা দেওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে কর্মরত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (FWV) নুরুন্নাহার জানান, ২০১৫ সালে এখানে যোগদানের পর থেকেই তিনি বিদ্যুৎবিহীন পরিবেশে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, "আমার এখানে পোস্টিং হয় ২০১৫ সালে। তখন থেকেই কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ নেই। এরও আগে থেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। জমিজমা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আজও বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। ভবনটিও প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। পাশে ইউনিয়ন পরিষদ থাকলেও সেখানে আমাকে বসতে বলা হলেও কক্ষ খালি না থাকায় বসতে পারিনি।"
তিনি আরও বলেন, "তীব্র গরমে আমি প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। প্রতিদিন এভাবেই দায়িত্ব পালন করছি। রোগীরা আমাকে প্রশ্ন করেন কেন বিদ্যুৎ নেই। কিন্তু আমার তো কিছু করার নেই। কর্তৃপক্ষ সুদৃষ্টি দিলে আমরা এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতাম।"
সেবা নিতে আসা এক গৃহবধূ বলেন, "এখানে গরমে বেশিক্ষণ বসে থাকা যায় না। বিদ্যুৎ না থাকায় খুব কষ্ট হয়। অসুস্থ মানুষ নিয়ে এসে আরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।"
আরেকজন বৃদ্ধা বলেন, "চিকিৎসা নিতে এসে মনে হয় অনেক বছর আগের কোনো হাসপাতালে এসেছি। এতদিনেও বিদ্যুতের ব্যবস্থা হয়নি, এটা খুবই দুঃখজনক।"
স্থানীয় এক আরেক বৃদ্ধা বলেন, "কী কারণে এত বছর ধরে বিদ্যুৎ নেই, তা আমরা জানি না। তবে বিদ্যুৎ ছাড়াই এভাবেই স্বাস্থ্যসেবা নিতে হচ্ছে আমাদের। এতে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মী দু'পক্ষই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।"
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন করা হোক।
এ বিষয়ে ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী তাহমিনা সারমিন বলেন, “আমি বিষয়টি পরিবার পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তারা জানিয়েছেন, ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।”
আরও পড়ুন:







