সোমবার

৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩ ভাদ্র, ১৪৩৩

পটুয়াখালীতে এশিয়ার প্রথম পানি জাদুঘর, কমেছে দর্শনার্থী

ইমরান হোসেন পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:২২

শেয়ার

পটুয়াখালীতে এশিয়ার প্রথম পানি জাদুঘর, কমেছে দর্শনার্থী
ছবি সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এশিয়া মহাদেশের প্রথম ও বাংলাদেশের একমাত্র পানি জাদুঘর অবস্থিত। নদ-নদী ও পানিসম্পদ রক্ষায় নীতিনির্ধারকদের উদ্যোগী করে তোলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরে বর্তমানে দর্শনার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়কের পাখিমারা বাজারসংলগ্ন এলাকায় একটি দ্বিতল ভবনে পানি জাদুঘরটি গড়ে উঠেছে। রবিবার ছাড়া সপ্তাহের ছয় দিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘর খোলা থাকে। স্কুল শিক্ষার্থীদের জনপ্রতি ১০ টাকা, পটুয়াখালী জেলার বাসিন্দাদের ২০ টাকা এবং অন্যান্য পর্যটকদের ১০০ টাকা প্রবেশ ফি দিতে হয়।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর ২০১৪) পানি জাদুঘরটির যাত্রা শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদের সহযোগিতায় এবং বুয়েটের সহায়তায় জাদুঘরের নকশাসহ বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা হয়। বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ পানি জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোক্তা।

নদী ও পানিসম্পদের নানা তথ্য

জাদুঘরে বাংলাদেশের ৭০০টি নদীর ইতিহাস, বিভিন্ন নদীর পানি, নদীর ছবি, নদীর পানির ইতিহাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার চিত্রসহ নানা তথ্য রয়েছে।

এছাড়া গ্রামবাংলার মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ, নদী নিয়ে গান ও পল্লিশিল্প এবং কাঁসা ও মাটির তৈরি তৈজসপত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে অভিন্ন ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদীর ইতিহাসও এখানে রয়েছে।

জাদুঘরে যমুনা, বুড়িগঙ্গা, পদ্মা, আন্ধারমানিক ও মেঘনাসহ ৯০টির বেশি নদীর পানির নমুনা সংরক্ষিত আছে।

নৌকায় নদী মৃত্যুর প্রতীকী উপস্থাপন

জাদুঘরের সামনে একটি নৌকা অর্ধেক বালুর মধ্যে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে। নদী মরে যাওয়ার গল্পের প্রতীক হিসেবে এটি স্থাপন করা হয়েছে। নদীর সঙ্গে নদীপাড়ের মানুষের জীবনও শুকিয়ে যাচ্ছে, সেই বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে নৌকাটির মাধ্যমে। নৌকার বুকে বিঁধে থাকা দুটি গজাল নদীমাতৃক এই দেশকে মেরে ফেলার চেষ্টার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

দর্শনার্থী কমায় রক্ষণাবেক্ষণে সংকট

জাদুঘর দেখতে আসা পর্যটক মো. রফিক রিয়া জানান, তিনি প্রথমবার পানি জাদুঘরে এসে ভালো লেগেছে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সেলিম খান জানান, মানুষের কাছে এশিয়ার প্রথম পানি জাদুঘর হিসেবে শুনে তিনি দেখতে এসেছেন। এখানে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি এক জায়গায় বসে দেখার সুযোগ রয়েছে।

জাদুঘরের পরিচালক লিপিমিত্র জানান, বর্তমানে দর্শনার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। আগে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকের উপস্থিতি থাকলেও এখন গড়ে মাত্র ৩ থেকে ৫ জন দর্শনার্থী আসেন। এতে জাদুঘরের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সীমিত আয় ও পর্যাপ্ত সহায়তার অভাবে জাদুঘরের অবকাঠামো সংস্কার, প্রদর্শনী উপকরণ সংরক্ষণ এবং প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপকূলীয় মানুষের ঐতিহ্যের প্রতীক

পানি জাদুঘর পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উত্তম সরকার জানান, এই জাদুঘর উপকূলীয় মানুষের আত্মত্যাগ ও ঐতিহ্যের প্রতীক। নদী ও পানিসম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার একটি কার্যকর উদ্যোগ এটি।