রবিবার

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২ ভাদ্র, ১৪৩৩

ভারতের নদীয়া সীমান্তে ১১ কেজি স্বর্নসহ বাংলাদেশী যুবক বিএসএফ এর হাতে আটক

রেজাউল করিম লিটন, চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:১৭

শেয়ার

ভারতের নদীয়া সীমান্তে ১১ কেজি স্বর্নসহ বাংলাদেশী যুবক বিএসএফ এর হাতে আটক
ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের নদীয়া জেলার হালদারপাড়া সীমান্ত এলাকায় ১১ কেজি ওজনের স্বর্নসহ এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

উদ্ধার হওয়া ২৪ ক্যারেটের ৮৯ পিস স্বর্ণের বারের মোট ওজন ১১ কেজি ২৮১ দশমিক ৭৭০ গ্রাম। যার আনুমানিক মূল্য ১৭ কোটি ৪০ লাখ ২১ হাজার ৩০২ ভারতীয় রুপি। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে বিএসএফের ৩২ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার হালদারপাড়া বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় গণমাধ্যমকর্মী সূত্রে জানা যায়, একজন বাংলাদেশি নাগরিকের কাছ থেকে ৮৯টি সোনার বিস্কুট (বার) উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। পরীক্ষায় উদ্ধার হওয়া বিস্কুটগুলো ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, আটক ব্যক্তি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তবর্তী কামারপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ এসোনের ছেলে মো. খবির। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, খবির একই গ্রামের মোহাম্মদ কাদেরের ছেলে শাহীন, কলম আলীর ছেলে শান্ত এবং হাফিজুলের ছেলে আরিফুলের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় যান।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্ত অতিক্রমের সময় খবির ভারতের অভ্যন্তরে গেলে বিএসএফ সদস্যদের হাতে আটক হন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বাকি তিনজন বাংলাদেশে ফিরে আসেন বলে তারা দাবি করেছেন।

তবে খবিরের সঙ্গে ওই তিনজনের সীমান্ত এলাকায় যাওয়া, স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা কিংবা তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আসার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, আটক মো. খবিরের স্ত্রী শামসুন্নাহার জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না এবং অসুস্থ ছিলেন। ফলে তার স্বামী কোথায় গিয়েছিলেন বা কীভাবে সীমান্ত এলাকায় পৌছেছেন, সে বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছু জানতেন না।

তিনি দাবি করেন, তার স্বামী একজন দিনমজুর এবং দিনমজুরি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। স্বর্ণ পাচার বা অন্য কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার স্বামী জড়িত কি না,এ বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য জানেন না বলে দাবি করেন।

খবিরের স্ত্রী আরও বলেন, বিজিবির সদস্যরা বাড়িতে এসে তাকে জানান যে তার স্বামী সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে গিয়ে আটক হয়েছেন। এর আগে তিনি বা পরিবারের অন্য সদস্যরা এ বিষয়ে কিছু জানতেন না।

তার স্বামীর কাছ থেকে কী উদ্ধার হয়েছে, তিনি কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছেন কিংবা কার মাধ্যমে সেখানে গিয়েছিলেন,এসব বিষয়ে তার কাছে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য নেই বলেও তিনি জানান। ঘটনার পর থেকে স্বামীর সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি ভারতের বিএসএফের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিএসএফের পক্ষ থেকে একজন বাংলাদেশি নাগরিককে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণসহ আটকের তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি ওপারে বিএসএফের সঙ্গে কথা বলেছি। যেটুকু জানতে পেরেছি, ওপারে কামারপাড়া গ্রামের একজন বিএসএফের কাছে স্বর্ণসহ আটক হয়েছে।