পরিবেশ রক্ষা ও পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পলিথিনবিরোধী সচেতনতামূলক প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ করেছে জেলা পরিষদ। এ সময় পলিথিনের ব্যবহার, বিক্রি ও মজুত বন্ধে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে ভবিষ্যতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।
রবিবার সকালে শহরের জগৎ বাজারে জেলা পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা, পথচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি পলিথিনের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে প্রচারণা চালানো হয়।
কর্মসূচিতে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ নিজ হাতে ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে পলিথিনের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, “পলিথিনের নির্বিচার ব্যবহার পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। সাধারণ মানুষ সচেতন হয়ে পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করলে এবং ব্যবসায়ীরা পলিথিন কেনা, বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ করলে এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।”
তিনি সবাইকে পলিথিনের পরিবর্তে পাট, কাপড় ও কাগজের তৈরি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারের আহ্বান জানান।
ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, “আজকে আমরা সতর্কবার্তা দিয়ে যাচ্ছি। আগামীতে কোনো দোকানদার পলিথিন ব্যবহার, বিক্রি বা মজুত করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
এ সময় বাজারের ব্যবসায়ীরা পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তারা।
কর্মসূচিতে সামাজিক সংগঠন "ঢেউ"-এর আহবায়ক সোহেল আহাদ, ভিপি তাজুসহ নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা অংশ নেন। তারা বাজারের বিভিন্ন দোকানে গিয়ে লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে কথা বলেন।
বিতরণ করা লিফলেটে পলিথিন ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, মাটি ও পানি দূষণসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে এর ব্যবহার বন্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, জনসচেতনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমেই পলিথিনের ব্যবহার কার্যকরভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই পরিবেশ রক্ষায় ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
আরও পড়ুন:







