রবিবার

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২ ভাদ্র, ১৪৩৩

ফ্লাইওভারের নিচে ভুতুড়ে পরিবেশ যেন অপরাধের অভয়ারণ্য!

রহিম জাবেদ ফেনী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৩

শেয়ার

ফ্লাইওভারের নিচে ভুতুড়ে পরিবেশ যেন অপরাধের অভয়ারণ্য!
ছবি বাংলা এডিশন

ফেনীর ফতেহপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রেললাইন ফ্লাইওভার সংলগ্ন এলাকা। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে অসংখ্য মানুষ। কিন্তু সন্ধ্যা নামলেই আলোহীন ফ্লাইওভার ও আশপাশের এলাকা হয়ে ওঠে অপরাধীদের অভয়ারণ্য। মাদকসেবন, ছিনতাই ও চুরিসহ নানা অপরাধ চলে এখানে। সোমবার (১০ আগস্ট) ছিনতাইকারীদের হামলায় প্রাণ হারান ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মোফাদুল ইসলাম ইয়ামিন।

ফ্লাইওভারের নিচে ভুতুড়ে পরিবেশ

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্লাইওভার ও রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত মাদকসেবন, আড্ডা, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলে। রাস্তার পাশে ল্যাম্পপোস্ট থাকলেও রাতে সেগুলোতে আলো জ্বলে না। ফলে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ তাদের।

তাদের দাবি, বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে করে মাদকসেবীরা এসে ফ্লাইওভারের নিচে ও ওপরে আড্ডা দেয়। প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অভিযোগও রয়েছে। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় সন্ধ্যার পর এই পথে চলাচল করতে ভয় পায় সাধারণ মানুষ ও রিকশাচালকরাও।

ছিনতাইয়ের বলি শিক্ষার্থী

সম্প্রতি, প্রকাশ্য দিবালোকে ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউটে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন মোফাদুল ইসলাম ইয়ামিন। পথেই তার ওপর হামলা করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়া হয়। গুরুতর আহত ইয়ামিনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেয়। অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রামে নেয়ার পথে সীতাকুণ্ড এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

সহপাঠীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, নিরাপদ যাতায়াতের জন্য তৈরি ফ্লাইওভারটি এখন পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

মহিপাল হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক বাংলা এডিশনকে জানান, ছিনতাই, ছুরিকাঘাত ও হত্যার মতো ঘটনা প্রতিরোধে ফ্লাইওভার ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি

ফতেহপুর রেললাইন ফ্লাইওভারের নিচে পুলিশ বক্স স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থার দাবি এলাকাবাসীর। তাদের মতে, এর সঙ্গে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা গেলে এই এলাকায় ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।