চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনায় মুখ খুলেছেন সেই ছাত্রদল নেতা তৌহিদুল ইসলাম নিশান। তিনি মিরসরাই উপজেলা ছাত্রদলের ক্রীড়া কমিটির সদস্য বলেও জানান।
রবিবার গণমাধ্যমকর্মীর এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদুল ইসলাম নিশান বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় তাদের সবকিছু ভণ্ডামি। আমার প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে, অবাঞ্ছিত স্বরূপ লাল কার্ড দেখিয়েছি।’
এর আগে শনিবার পূর্বঘোষিত ১১ দলীয় ঐক্যের ‘ঢাকা টু চট্টগ্রাম লংমার্চ’ কর্মসূচি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার পথসভাস্থলে পৌঁছালে মহাসড়কে গাড়িতে থাকা অবস্থায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী এবং সংগঠনটির আমির ডা. শফিকুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন নিশান। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
ঘটনার পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে তৌহিদুল ইসলাম নিশান লেখেন, ‘আমার এই লাল কার্ড প্রদর্শনে কোনো এক গোষ্ঠীর গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে। খেয়াল করলে দেখবেন, শুধু মাত্র লাল কার্ডই প্রদর্শন করলাম। এখানে না দিলাম গালি, না দেখালাম জুতো, না দেখালাম ঝাড়ু, না করলাম মা-বাবা, ভাই-বোন নিয়ে গালমন্দ। একটু বিচার-বিশ্লেষণ করলেই ব্যাপারটি বোধগম্য হবে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘সুতরাং আপনি গালাগাল, হুমকি ইত্যাদি করতে পারেন। যেহেতু রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত, সেহেতু আপনাদের গালমন্দ আমার ভালোই লাগছে। আপনাদের বেতনের আওতায় না আনতে পারায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লংমার্চের গাড়িবহর মিরসরাইয়ের পথসভাস্থল অতিক্রম করার সময় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে তৌহিদুল ইসলাম নিশানকে লাল কার্ড প্রদর্শন করতে দেখা যায়। এ সময় ঘটনাটি ঘিরে আশপাশে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পরে লাল কার্ড প্রদর্শনের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে মিরসরাই থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির নুরুল কবির বলেন, ‘এটাও চেয়েছিল একটা সিন ক্রিয়েট করে আমাদের লংমার্চে হট্টগোল সৃষ্টি করার জন্য। কে বা কারা করেছে, এটা দুঃখজনক। অথচ এমপি মহোদয় আমাদের আগে থেকেই বলেছেন, মিরসরাইতে আপনারা শান্তি-শৃঙ্খলা ভাবে কর্মসূচি পালন করবেন। এজন্য আমার পক্ষ থেকে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তারপরেও অপ্রত্যাশিত এমন ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।’
এ বিষয়ে সচেতন মহলের কেউ কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও ভিন্নমত প্রকাশ গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হলেও তা যেন কোনোভাবেই সংঘাত বা বিশৃঙ্খলার কারণ না হয়। তাদের মতে, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এমন প্রতীকী প্রতিবাদ থাকতেই পারে, তবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। এছাড়াও কোনো পক্ষের কর্মসূচিতে উসকানিমূলক আচরণ পরিহার করে রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তারা।
আরও পড়ুন:







