হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও জনবল সংকট চলছে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের। কেউ কেউ চিকিৎসক না পেয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রায় ২৫ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতাল। শুধু হবিগঞ্জ নয়, কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকার রোগীরাও এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে প্রতিদিনই রোগীর চাপ থাকে ব্যাপক।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকের ৭৬টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২০ জন। অর্থাৎ ৫৬টি পদই শূন্য। একইভাবে ১৭৭টি নার্সের পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন ১৪২ জন। এতে নার্সের ৩৫টি পদ শূন্য রয়েছে।
এ ছাড়া ৩৯টি টেকনিশিয়ানের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৭ জন। ফলে ২২টি পদ শূন্য। ওয়ার্ডবয়, গার্ড ও ক্লিনারসহ অন্যান্য ৬২টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৩৫ জন। এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও জনবল কম থাকায় রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদের। এর প্রভাব পড়ছে রোগীদের চিকিৎসাসেবায়।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রুজিনা বেগম জানান, ছেলেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে এসে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধও বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়।
আরেক রোগী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের অনেক বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অনেকেই চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের কেউ কেউ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন না।
হাসপাতালের চিকিৎসক ও জনবল সংকট দ্রুত নিরসন করে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকার বলেন, চিকিৎসক ও জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও সীমিত জনবল দিয়ে রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের এই জনবল সংকট কবে কাটবে সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন হবিগঞ্জের লাখো মানুষ।
আরও পড়ুন:







