ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মেধাবী ও কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া গ্র্যাজুয়েট ক্লাব আয়োজিত বর্ণাঢ্য ‘Award Ceremony’ অনুষ্ঠানে জেলার ১২০ জন কৃতি ছাত্র-ছাত্রীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. তৌফিকুল ইসলাম মিথিল। তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আজকের এই অর্জন শুধু একটি ভালো ফলাফল নয়, এটি তোমাদের পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও স্বপ্ন দেখার সক্ষমতার স্বীকৃতি। জীবনে বড় হতে হলে শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করলেই হবে না, মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের মেধা ও জ্ঞান যেন পরিবার, সমাজ এবং দেশের কল্যাণে কাজে লাগে, এটাই হোক আগামী দিনের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “তোমাদের সামনে এখন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। সাফল্যকে উদযাপন করার পাশাপাশি ব্যর্থতাকেও সাহসের সঙ্গে গ্রহণ করতে শিখতে হবে। মনে রাখবে, মেধা তোমাকে পথ দেখাবে, কিন্তু সততা, মানবিকতা ও পরিশ্রম তোমাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। তোমরাই আগামী দিনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া গ্র্যাজুয়েট ক্লাবের সভাপতি জনাব রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সৈয়দ শামসুদ্দিন আহমেদ, রেজিস্ট্রার প্রফেসর এ এস এম শফিকুল্লাহ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা কৃতি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের মেধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পুরো জেলার জন্য গর্বের বিষয়। এ ধরনের আয়োজন মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদেরও ভালো ফলাফল ও সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মো. আনোয়ার হোসেন।
পরে ১২০ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, মেধাবী প্রজন্মকে উৎসাহিত করার এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষাঙ্গনে ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন:







