দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে ১৬ মাস কারাভোগের পর বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন নয় বাংলাদেশি নাগরিক। তাঁদের মধ্যে তিনজন নারী, দুই শিশু ও চারজন পুরুষ রয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ভারতের হরিদাসপুর ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পেট্রাপোল-বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের শূন্যরেখায় দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
এ সময় দুই দেশের ইমিগ্রেশন পুলিশ, বিজিবি, বিএসএফ এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, কলকাতার দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) ওমর ফারুক আকান্দ স্বাক্ষরিত ভ্রমণ পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হস্তান্তরপত্রে বলা হয়েছে, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে গত ২৪ আগস্ট ইস্যু করা ট্রাভেল পারমিট এবং ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও), হায়দ্রাবাদ থেকে দেওয়া এক্সিট পারমিটের ভিত্তিতে তাঁদের প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে দালালের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে তাঁরা ভারতে যান। পরে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে আটক হয়ে আদালতে সোপর্দ হন। আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠান। ১৬ মাস সাজাভোগ শেষে তাঁদের কলকাতার দমদম সেল্টার হোমে রাখা হয়েছিল।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান বলেন, প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে তাঁদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বেনাপোল পোর্ট থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, থানার আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁদের বেসরকারি সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার ও রাইটস যশোরের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরে সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় তাঁদের পরিবারের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম বলেন, দালালদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রলোভনে পড়ে তাঁরা অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে আটক হওয়ার পর আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। সাজাভোগ শেষে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি জানান, দেশে ফেরা নয়জনের মধ্যে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার পাঁচজন এবং রাইটস যশোর চারজনকে গ্রহণ করছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে এনজিওগুলোর সহযোগিতায় তাঁদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।
দেশে ফেরা নয়জন হলেন—নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কুলশুর গ্রামের শহীদ মল্লিকের মেয়ে মুক্তা ওরফে মুক্তা খানম; নড়াগাতী থানার মূলখানা (কালবাড়িয়া) গ্রামের ইমরান শিকদারের মেয়ে খাদিজা ও আয়েশা; কালিয়া উপজেলার কুলশুর গ্রামের শহীদ মল্লিক ওরফে সৈয়দ মল্লিকের স্ত্রী জাহানারা বেগম ও মেয়ে রুকসানা।
এ ছাড়া রয়েছেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার কুরুলিয়া গ্রামের খগেন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে তাপস মন্ডল, রাজবাড়ী সদর উপজেলার সিঙ্গা গ্রামের নিজাম মোল্লার ছেলে আশিক মোল্লা ওরফে আশাক মোল্লা, খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর মঠবাড়ী (মহারাজপুর) গ্রামের মৃত সন্তোষ সরকারের ছেলে তন্ময় সরকার এবং পাইকগাছা উপজেলার সারংখালী গ্রামের বিধান চন্দ্র বাছারের ছেলে রামকৃষ্ণ বাছার।
আরও পড়ুন:







