শনিবার

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১ ভাদ্র, ১৪৩৩

কুকুর ও বিড়াল নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তায় নগরবাসী

বাংলা এডিশন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:২২

শেয়ার

কুকুর ও বিড়াল নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তায় নগরবাসী
ছবি বাংলা এডিশন

পোষা প্রাণীর কামড়ে বাড়ছে আতঙ্ক; সামান্য আঁচড়েই হতে পারে মৃত্যু

জলাতঙ্কের ঝুঁকি

সামান্য আঁচড়েও ছড়াতে পারে মারাত্মক রেবিস ভাইরাস; বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা

গলি থেকে রাজপথ এখন যেন হাঁটতেও আতঙ্ক। পথচলতি বেওয়ারিশ কুকুরের দলীয় আক্রমণ হোক কিংবা ঘরের আদুরে প্রাণীর অচেনা রূপ; বিষাক্ত নখ আর দাঁতের কামড়ে প্রতিনিয়তই রক্তাক্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

হাটবাজার বা কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে আকস্মিক আক্রমণের শিকার হচ্ছে পথচারীরা। প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা বেওয়ারিশ প্রাণীর উপদ্রবে এখন পথচলাটাই হয়ে উঠেছে এক বড় ঝুঁকি।

তবে, কেবল বাইরের পথেই বিপদের শেষ নয়। মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। পরম মমতায় যে পোষা প্রাণীকে ঘরের সদস্য বানিয়ে নেয়া হয়, সামান্য অসাবধানতায় সেই প্রাণীর আঁচড় ও কামড়ে রক্তাক্ত হয়ে এই হাসপাতালে আসছে বহু মানুষ।

ভয়াবহতায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কোমলমতি শিশুরা

দেশজুড়ে সম্প্রতি সড়ক ও বাসা-বাড়িতে কুকুর এবং বিড়ালের আক্রমণের শিকার হওয়া শিশুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। খেলার ছলে কিংবা অসাবধানতাবশত গৃহপালিত অথবা বেওয়ারিশ সব ধরনের প্রাণীরই লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে তারা। রাজধানীসহ সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে জলাতঙ্কের টিকা নিতে আসা আক্রান্তদের একটি বড় অংশই এখন শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ শাখা সিডিসির তথ্য বলছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ মানুষ প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত হয়। মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেই প্রতিদিন সেবা ও ভ্যাকসিন নিচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ জন রোগী, যার বড় একটি অংশই পোষা প্রাণীর কামড়ের শিকার।

মানুষ কেন হুট করে এমন বেপরোয়া আক্রমণের শিকার হচ্ছে, তার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ এফ এ আসমা খানম জানান, কুকুর বা বিড়ালের সামান্য আঁচড় বা কামড় থেকেই ছড়াতে পারে মারাত্মক রেবিস ভাইরাস। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে জলাতঙ্কের রূপ নেয়া এই সংক্রমণ ১০০ ভাগই প্রাণঘাতী।

এই চিকিৎসকদের মতে, পথচারীদের বহিরাঙ্গন তৎপরতা বৃদ্ধি, পোষা প্রাণীর সঠিক পরিচর্যার অভাব, জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না দেয়া এবং প্রজনন মৌসুমে প্রাণীদের উত্ত্যক্ত করার কারণেই মূলত এসব অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি সতর্ক থাকা আহ্বান জানিয়ে এ বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে বলেন তিনি।

এই অবস্থায়, ঘরের পোষা প্রাণীকে নিয়মিত জলাতঙ্কের প্রতিষেধক এবং বাইরে চলাচলে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। কারণ প্রাণীর থাবায় অবহেলা মানেই মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া, আর সঠিক পদক্ষেপই পারে জীবন বাঁচাতে।