শনিবার

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১ ভাদ্র, ১৪৩৩

মহেশপুরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, লাঠির আঘাতে নিহত এক

ইসমাইল খান ইয়ানবী,মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৩

শেয়ার

মহেশপুরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, লাঠির আঘাতে নিহত এক
ছবি: বাংলা এডিশন

ঝিনাইদহের মহেশপুরে ফুটবল খেলা নিয়ে দুই শিশুর বিরোধের জেরে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে লুৎফর রহমানের লাঠির আঘাতে তার মামাশ্বশুর মো. রবিউল ইসলাম (৪৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত লুৎফর রহমান পলাতক রয়েছেন। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

শনিবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের যাদবপুর মাঝের পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাদবপুর মাঝের পাড়ায় পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করেন রবিউল ইসলাম ও তার ভাগ্নি জামাই লুৎফর রহমান। তাদের পরিবারের ছোট দুই ছেলে জিহাদ ও সোহানসহ কয়েকজন শিশু শনিবার মাঠে ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে জিহাদ ও সোহানের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মারামারি হয়।

পরে শিশুরা বিষয়টি নিজ নিজ পরিবারের সদস্যদের জানালে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংঘর্ষের একপর্যায়ে লুৎফর রহমান লাঠি দিয়ে রবিউল ইসলামের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রবিউল ইসলাম।

পরে স্বজনরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় মোটরসাইকেলে করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তবে যাদবপুর বাজারে পৌঁছালে তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

নিহত রবিউল ইসলাম ওই এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় বাসিন্দা আসমান তুল্লা (পচা)-র ভাই বলে জানা গেছে।

মহেশপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক জানান, ফুটবল খেলা নিয়ে দুই শিশুর মধ্যে মারামারির জের ধরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় লুৎফর রহমানের লাঠির আঘাতে রবিউল ইসলাম গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত লুৎফর রহমান পলাতক রয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তসহ আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, রবিউল ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত লুৎফর রহমানকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।