সময়টা ২৯ আগস্ট বিকেল। সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট, ৪টা ১২ মিনিটে চট্টগ্রাম পাহাড়তলী কলেজের মূল ফটকে, তিন যুবকের সাথে গোপন শলাপরামর্শ করছেন অধ্যক্ষ শ্যামল কান্তি মজুমদার। ঠিক এর পরপরই, বাংলা বিভাগের প্রভাষক মিজানুর রহমানকে তার কক্ষ থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় ওই যুবকরা।
শিক্ষককে অপহরণ ও পৈশাচিক নির্যাতন
অভিযোগ উঠেছে, ক্যাম্পাস থেকে অপহরণ করে তাকে নেওয়া হয় স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা ওয়াকিল হোসেন বগার টর্চার সেলে। সেখানে রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আঙুল ও কব্জি ভেঙে দেওয়া হয় ওই প্রভাষকের। পৈশাচিক এই নির্যাতনের সময় ভিডিও কলে যুক্ত থেকে উল্লাস করেন খোদ অধ্যক্ষ।
এসময় শিক্ষককে পেটানোর পর, তাকে বগার অফিসের চেয়ারে বসিয়ে, অস্ত্র ধরে গুণগান গাওয়ানো হয় এক ভিডিও বক্তব্যে।
এ ঘটনার পর হাসপাতালে ভর্তি হন শিক্ষক মিজান। চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খুলশী থানায় অধ্যক্ষ ও বগাসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৫জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক।
পুলিশের ওপর সিনেমা স্টাইলে হামলা
এতে, ক্ষিপ্ত হয়ে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমকে ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে সন্ত্রাসী বগা।
রাতেই ওয়্যারলেস মোড় এলাকায় তার আস্তানায় সাঁড়াশি অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ৮ সদস্যকে আহত করে, ঘরের গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যায় বগা এবং তার বাহিনী।
তবে, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জড়িত সকল আসামিকে ধরতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ও হামলার নেপথ্য
শিক্ষকের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার নেপথ্যে রয়েছে সোমবার (৩১ আগস্ট) ‘বাংলা এডিশন’-এ প্রচারিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সেই রিপোর্টে মুখ খুলেছিলেন শিক্ষক মিজানুর। প্রতিবেদনে উন্মোচিত হয়, পাঠদানের কক্ষ ভাড়ায় চলছে বিয়ের অনুষ্ঠান। এছাড়া মুসলিম শিক্ষকদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, পূজার প্রসাদ খেতে বাধ্য করা এবং প্রতিবাদ করলেই ‘জামায়াত-শিবির’ তকমা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর প্রমাণ উঠে আসে ওই সংবাদে।
প্রতিবেদনে আরও দেখানো হয়, নিয়ম ভেঙে ঘনিষ্ঠ এক বহিরাগত নারীকে ৬ একর জমির দখল দিয়েছেন অধ্যক্ষ। গেটের বাইরে অবৈধ দোকান বসিয়ে চলছে চাঁদাবাজি। কোটি টাকার তহবিল তছরুপের প্রতিবাদ করায়, গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করার তথ্যও ফাঁস হয়। এসব ধামাচাপা দিতে এর আগে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে, শিক্ষক মিজানুরের কক্ষে বিনা ওয়ারেন্টে তল্লাশিও চালিয়েছিলেন এই অধ্যক্ষ।
মাউশিতে অভিযোগ ও ক্যাম্পাসে আতঙ্ক
দুর্নীতি ও শিক্ষক নির্যাতনের এসব ঘটনায় মাউশিতে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে শিক্ষক ফেডারেশন।
ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি। তবে মূল অভিযুক্ত অধ্যক্ষ এখনও স্বপদে বহাল থাকায় পুরো ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক।
আরও পড়ুন:







