রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আবাদি জমিতে দেয়া বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে নবিরন নেছা নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম মৃধাকে ফরিদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০।
শনিবার প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে র্যাব-১০, সিপিসি-৩ (ফরিদপুর ক্যাম্প)।
র্যাব ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর বিকেলে গোয়ালন্দ ঘাট থানার চর দৌলতদিয়া এলাকায় বর্গা নেয়া জমিতে কাজ করতে যান নবিরন নেছা। সন্ধ্যার পরও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে রাতে পাশের একটি আখক্ষেতের পানিতে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে শুরুতে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে ধারণা করা হলেও পরে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে ওই জমির পাশে জিআই তারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার তথ্য পাওয়া যায়। মাঠে কাজ করার সময় ওই তারের সংস্পর্শে এসেই নবিরন নেছার মৃত্যু হয়েছে বলে মামলার তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে।
র্যাব আরও জানায়, মৃত্যুর পর মরদেহ সরিয়ে ফেলা এবং ঘটনাটি গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে পাশে একটি গর্ত খোঁড়া হয়েছিল বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের গ্রেপ্তার ও আইনগত সহায়তার জন্য র্যাব-১০-এর কাছে অধিযাচনপত্র পাঠান।
র্যাব জানায়, অধিযাচনপত্র পাওয়ার প্রায় ৮ ঘণ্টার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে শনিবার গভীর রাতে ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানাধীন বেপারীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম মৃধার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাকে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব-১০।
আরও পড়ুন:







