শনিবার

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১ ভাদ্র, ১৪৩৩

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে বদলির নামে ট্রাক চালকদের সিন্ডিকেট

মো.সম্রাট হোসাইন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩২

শেয়ার

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে বদলির নামে ট্রাক চালকদের সিন্ডিকেট
ছবি: বাংলা এডিশন

পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে বদলি ট্রাক চালকের নামে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্র। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বন্দরে আসা পণ্যবাহী ট্রাক চালকেরা সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে খোয়া যাচ্ছে তাদের হাজার হাজার টাকা। এতে পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এ বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে দাবী সিএনএফ এজেন্টদের। এতে কমে আসবে রাজস্ব আয়। বদলি চালকের নামে সিন্ডিকেট মুক্ত চায় রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক চালকরা।

রপ্তানী পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের অভিযোগ,তাদের কাগজপত্র সবকিছু ঠিক থাকলেও বাংলাবান্ধায় ট্রাক আটকিয়ে দেয় স্থানীয় চালকেরা। তাদেরকে বাধ্য করে বদলি চালক নিতে। তাদের কথা অমান্য করে গেলেও ফুলবাড়ি চেকপোস্টে তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যরা ফিরিয়ে দেয় গাড়ী। এতে হয়রানি স্বীকার হতে হয় অনেক বেশী। বদলি চালককে দিলে কেউ কেউ গাড়ি দূর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি করে নিয়ে আসে।

জানা যায়,দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা দিয়ে প্রতিদিন ৩০-৪০ টি গাড়ীতে রপ্তানি হচ্ছে ভুসি, ঝুট ও শিশু খাদ্য প্রাণের মালামাল।দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক চালকেরা আসলে, গাড়ি আটকিয়ে বদলি চালক তুলে দেয় সিন্ডিকেট চক্রটি। ট্রাক প্রতি হাতিয়ে নেয় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত।

গাজীপুর থেকে আসা ট্রাক চালক ইকবাল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ঢাকা থেকে ট্রাকে পণ্য নিয়ে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত আসছি। এখানে এসে আমার ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাগজের দাম নাই। বদলি চালক দেয়ার জন্য আটকিয়ে দেয় স্থানীয় শওকত মেম্বার নামের এক ব্যক্তি। পরে তাদেরকে বদলি চালকের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা দিতে হয়। যদি রাত থাকতে হয় তাহলে আরো ৫০০ টাকা দিতে হবে। গাড়িতে আমি টাকা পাবো ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা,আমার আরো খরচ রয়েছে। সেখান থেকে বদলি চালক দিলে আমার কিছু থাকবেনা।

যশোর থেকে আসা ট্রাক চালক রাহিদুল ইসলাম বলেন,যতবড়ই কাগজ থাকুক কিন্তু গাড়ি নিয়ে পণ্য খালাস করতে যাইতে পারবেননা। আমার ভারী যানবাহন চালকের লাইসেন্স রয়েছে, যশোর থেকে আসছি। কিন্তু আর ১ কিলোমিটার যাইতে পারবোনা। বদলি চালক দেয়ার নামে আমাদের পেটের ভাত কেরে নেয়া হচ্ছে।

ঢাকা থেকে আসা ট্রাক চালক নেওয়াজ উদ্দিন, শসসের আলী, মসলিম উদ্দিনসহ আরো অনেকে জানান, গাড়ি বাংলাবান্ধায় পৌঁছানোর পর বদলি চালকদের সিন্ডিকেট চক্রটি গাড়ি আটকিয়ে চালকের স্মার্ট কার্ড খোঁজে। যেখানে স্মার্ট কার্ড সরকার গত কয়েক বছর ধরে দেয়না, সেখানে আমরা কোথায় পাবো। অনলাইন থেকে লাইসেন্স নিয়ে আমরা ব্যবহার করি।

অভিযুক্ত শওকত মেম্বার বলেন, জোর করে কোন বদলি চালক দেয়া হয়না। যারা নিতে চায় তাদেরকে দেয়া হয়। বাংলাবান্ধায় ২০০০ ও ২৬৪ শ্রমিক সংগঠন রয়েছে। সবাই এক সাথে কাজ করছি।

বাংলাবান্ধা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক মো.সাদেকুল ইসলাম বলেন,বিষয়টি শুনেছি কিছু ঝামেলা আছে, আমরা আগামীকালকে বসবো।