শনিবার

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১ ভাদ্র, ১৪৩৩

ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, সংঘর্ষে ৪০ ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এজাহার

বগুড়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৫৬

শেয়ার

ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, সংঘর্ষে ৪০ ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এজাহার
ছবি: সংগ্রহীত

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় আব্দুল মালেক নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রান্ত ইসলামের মা নাজনীন আক্তার বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন।

এজাহারে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আনোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসককে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী যার দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার আব্দুল মালেক নামে এক ব্যক্তি শজিমেক হাসপাতালের সপ্তম তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃতদেহ নিতে হাসপাতালে যান তাঁর স্বজন ও প্রান্ত ইসলামের বন্ধুরা। এ সময় স্বজনদের অভিযোগ, মালেককে অন্য রোগীর ইনজেকশন দেয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে মালেকের নাতি মনির হোসেনের কথাকাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে আনোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ইন্টার্ন চিকিৎসকরা প্রান্ত ইসলাম, মনির হোসেন, নাফিউল ইসলাম, রাকিবুল ইসলাম রাকিব, এসএম শিহাব ও তানবিন শেখকে মারধর করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, হাসপাতালের স্যালাইনের লোহার স্ট্যান্ড, এসএস পাইপ, কাঠের বাটাম ও চেয়ার দিয়ে মারধরের ঘটনায় প্রান্ত ইসলামের বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল, ডান হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙুলে হাড় ভাঙার জখম হয়। তাঁর নাকেও রক্তাক্ত জখম করা হয়। এছাড়া নাফিউল ইসলামের মাথায় আঘাত করে ফেটে যাওয়াসহ দুই চোখে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় হাসপাতালে কর্তব্যরত পুলিশ ও রোগীর লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রান্তসহ আহতদের মারধর ও হত্যার হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাদের একটি কক্ষে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যের ভিডিও ধারণের অভিযোগও করা হয়েছে। পরে পুলিশের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

ঘটনার সাক্ষী হিসেবে মনিকা ও লাকী বেগমসহ স্থানীয় কয়েকজনের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, এজাহারে কিছু বিষয়ে ভুল হওয়ায় সংশোধন করার জন্য তাদের বলা হয়েছে। এখনো এটা একটি নথিভুক্ত হননি বলে জানান তিনি।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শজিমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে আব্দুল মালেক নামের এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের সংঘর্ষ হয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, এতে অন্তত ২১ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন। এছাড়া হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রীও ভাঙচুর করারও অভিযোগ তোলা রোগীর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় বুধবার হাসপাতালে ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়। পুলিশ এ পর্যন্ত ছয়জনকে আহত অবস্থায় পুলিশের দিয়েছে ইন্টার চিকিৎসকরা।