বাগেরহাটের চিতলমারীতে লাইসেন্স ও রুট পারমিটহীন বলগেট এবং অবৈধ ড্রেজার দিয়ে ভূগর্ভস্থ থেকে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। প্রশাসনের জরিমানার পরও উপজেলার ১০ থেকে ১২ জন চিহ্নিত ড্রেজার (বালু উত্তোলনের মেশিন) ও বলগেট মালিক ভূগর্ভ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন এবং পরিবহন করছেন। অভিজ্ঞদের মতে, এতে চিতলমারী তলাশূণ্য হচ্ছে। ফলে পরিবেশ চরম হুমকির মুখে পড়ছে। অপরদিকে ছোট্ট খালে বড় বলগেট দিয়ে বালু পরিবহন করায় দুটি পাঁকা গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এই লাইসেন্স ও রুট পারমিটহীন বলগেট এবং অবৈধ ড্রেজার দিয়ে ভূগর্ভস্থ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবীতে এলাকাবাসিরা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন। তাঁরা অবৈধ বালু কারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী করেছেন।
অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে বলে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জানিয়েছেন।
অভিযোগ পত্রে জানা গেছে, দুটি পাইপ বালু তুলতে মাটির নিচে যায়। একটি পাইপ তলদেশের শুকনো বেলেমাটি পানি দিয়ে ভেজাতে থাকে এবং অন্য পাইপটি ভেজা মাটি চুষতে থাকে। ভূগর্ভস্থ এই চুষে নেয়া পানি মেশানো বেলেমাটি পাইপের মাধ্যমে তোলা হয়। এই যন্ত্রটি দিনে কয়েক হাজার ফুট ভূগর্ভস্থ বেলেমাটি তোলে। এ কারণে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ড্রেজারকে স্থানীয়রা ‘আত্মঘাতী’ বলে। এ রকম প্রায় ১৫ থেকে ২০টি ডেজার মেশিন এ উপজেলায় রয়েছে। এ মেশিন দিয়ে উপজেলার খড়মখালী, পাঙ্গাশিয়া, নালুয়া, পিঁপড়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন গ্রামে বেপরোয়া ভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে সরকারী রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্টান, বাজার, ধর্মীয় উপসানালয় ও পরিবেশ হুমকীর মুখে পড়ছে।
এছাড়া চিতলমারী সদর বাজারের পাশে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নবীর সরদার ও কামাল মেম্বার লাইসেন্স ও রুট পারমিট বিহীন অবৈধ বলগেট দিয়ে জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া চরকুড়াতলা এলাকার বিভিন্ন কৃষি জমি ও জলাশয়ের শ্রেণী পরিবর্তন করছে। ছোট্ট খালে তাদের বিশাল বলগেটের ঢেউয়ের তোড়ে বাবুগঞ্জ বাজার থেকে চিতলমারী বাজার পর্যন্ত পাকা দুটি গ্রামীন সড়ক চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ইতিমধ্যে রাস্তা দুটির বিভিন্ন জায়গা ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বলগেটের ধাক্কায় বোয়ালিয়া-খলিশাখালী লোহার পুলটি হেলে পড়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে শেরে বাংলা কলেজ জামে মসজিদটি। বলগেট চালাতে হলে সরকার কর্তৃক রুট পারমিট ও ট্রলারের লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। এ ঘটনা থেকে প্রতিকার পেতে উপজেলার অর্ধশত মানুষ বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন।
এ ব্যাপারে আবেদনকারী বাশার খাঁন, মোঃ জসিম শেখ ও মোঃ রফিকুল ইসলামসহ অনেকে বলেন, ‘লাইসেন্স ও রুট পারমিট বিহীন অবৈধ বলগেট ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পাকা গ্রামীন সড়ক এবং মসজিদ রক্ষার জন্য আমরা বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি। যত্রতত্র এই বালু উত্তোলন প্রতিরোধ করতে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ বাস্তবায়ন করার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।’
নবীর সরদার জানান, বলগেটে বালু পরিবহন অবৈধ নয়। তার ট্রলার ও বলগেটের রুট পারমিট এবং লাইসেন্স আছে।
কামাল মেম্বার বলেন, ‘আমার ট্রলার নষ্ট হয়েছে। আমি এখন গোপালজঞ্জ যাচ্ছি। পরে আপনাদের সাথে কথা বলব।’
স্থানীয় পরিবেশবাদীরা জানান, আইন অমান্যকারী দুই বছরের কারাদন্ড ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। চিতলমারীতে এ ধরণের কঠোর ব্যবস্থা নিলে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হবে।
শুক্রবার দুপুর ২ টায় চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জানান, ভূগর্ভের বালি বা মাটি উত্তোলন করা নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। এটি বন্ধে মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি।’
আরও পড়ুন:







