যশোরের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে স্ট্রোক করে মারা যাওয়া ভারতীয় পাসপোর্টযাত্রী গৌতম মিস্ত্রির মরদেহ তিন দিন পর ভারতীয় দূতাবাসের ছাড়পত্র নিয়ে দেশে ফিরেছে।
শুক্রবার দুপুরের দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তাঁর মরদেহ ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন হয়ে দেশে ফিরে যায়। গৌতম মিস্ত্রি ভারতের কলকাতার ৭৮/১, কালিয়নগর, সূর্য সেন পল্লীর বাসিন্দা। তিনি রমনী মিস্ত্রির ছেলে। তাঁর পাসপোর্ট নম্বর এন-৩৩৬১৬১১।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট গৌতম মিস্ত্রি ও তাঁর স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রি ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। বরিশালে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়ানো শেষে দেশে ফেরার পথে গত বুধবার বেনাপোলে আসেন তাঁরা। গাড়ি থেকে নামার পরপরই গৌতম মিস্ত্রি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশের অংশে তাঁর মৃত্যু হওয়ায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ নিয়ে ভারতে ফিরতে পারেননি তাঁর স্ত্রী। পরে হাসপাতাল থেকে মৃত্যুসনদ, স্থানীয় থানার সাধারণ ডায়েরির (জিডি) কপি এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ছাড়পত্র সংগ্রহ করা হয়। এসব কাগজপত্র পাওয়ার পর শুক্রবার তাঁর মরদেহ দেশে নেয়া হয়।
গৌতম মিস্ত্রির স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রি বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে আমি আমার স্বামীকে নিয়ে বাংলাদেশে বাবার বাড়ি ও আত্মীয়দের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলাম। দেশে ফেরার জন্য বুধবার বেনাপোলে আসার পর গাড়ি থেকে নামতেই আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে মারা যাওয়ার কারণে বিভিন্ন কাগজপত্রের জন্য তিন দিন মরদেহ নিয়ে দেশে ফিরতে পারিনি। পরে ডেথ সার্টিফিকেট, থানার জিডি ও ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ছাড়পত্র সংগ্রহ করে আজ দেশে ফিরছি।’
বাংলাদেশে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে জাহানারা মিস্ত্রি বলেন, ‘আমার কাছে কোনো টাকা-পয়সা ছিল না। এ দেশের মানুষ আমাকে টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। মরদেহ গাড়িতে তোলা-নামানো থেকে শুরু করে বিভিন্নভাবে তাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি স্যারসহ স্থানীয় কয়েকজন মানুষ টাকা-পয়সা জোগাড় করে দিয়েছেন। সেই টাকা দিয়ে ঢাকা যাওয়া-আসা, খাওয়া-দাওয়াসহ বিভিন্ন খরচ চালিয়েছি। অথচ আমার নিজের ভাইকে ফোন করেও তাঁকে পাশে পাইনি। বাংলাদেশের মানুষের এই মানবিকতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান বলেন, ‘গত বুধবার স্ট্রোকজনিত কারণে ওই ভারতীয় পাসপোর্টযাত্রীর মৃত্যু হয়। সেদিন তাঁর স্ত্রীর কাছে ডেথ সার্টিফিকেট ও থানার জিডির কপি ছাড়া অন্য কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল না। পরে ভারতীয় দূতাবাসের ক্লিয়ারেন্স আনার পর ইমিগ্রেশন থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেয়া হয়।’
শুক্রবার তাঁর স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রি স্বামীর মরদেহ নিয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে চলে গেছেন।
আরও পড়ুন:







