বৃহস্পতিবার

৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯ ভাদ্র, ১৪৩৩

জনগণের ভোগান্তি নিরসনে লং মার্চে অংশ নিচ্ছে এনসিপি: আখতার হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১৬

শেয়ার

জনগণের ভোগান্তি নিরসনে লং মার্চে অংশ নিচ্ছে এনসিপি: আখতার হোসেন
ছবি: সংগৃহীত

জনগণের ভোগান্তি নিরসন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লং মার্চে এনসিপি অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আখতার হোসেন বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লং মার্চের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে লং মার্চ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির অংশগ্রহণ কীভাবে হবে, সে বিষয় নিয়ে আজকে আমাদের একটি মিটিং ছিল। আমাদের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং তাদের সকল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করেছি। আমরা সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের বর্তমান যে প্রেক্ষাপট দেখছি, তাতে করে জনভোগান্তি নিরসন করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এই লং মার্চে উপস্থিত হচ্ছি।’

এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, ‘সরকার গঠন করার ছয় মাস সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। কিন্তু এই ছয় মাস সময়কালজুড়ে সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না, সরকার জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না, জনগণের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহ করতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো না ।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের যে দাবি-দাওয়াগুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরা সংসদে কথা বলছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে এই দাবি-দাওয়াগুলোকে গ্রাহ্য করার মতো মানসিকতা প্রদর্শন করা হয়নি।’

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় আসার পরে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। কয়েক দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু তারপরেও এখন ঘরে ঘরে লোডশেডিং। গ্রামাঞ্চলগুলোতে দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকে। কোনো কোনো অঞ্চলে তার থেকেও বেশি সময় লোডশেডিং থাকে।’

‘এটা চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। নিজে গ্রামে গিয়েছিলাম। গ্রামের মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। গ্রামের কৃষকরা এখন সার পাচ্ছেন না। অথচ এখন এমন মৌসুম চলছে যে এ মৌসুমে কৃষকরা যদি সার না পান, তাহলে তারা ফসল উৎপাদন করতে ব্যাহত হবেন এবং আমাদের কিন্তু না খেয়ে মরতে হবে। এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাসের সংকট, যার কারণে শিল্প-কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গাগুলোতেই যারা পারিবারিকভাবে রান্নাবান্নার কাজে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল থাকেন, সে মানুষগুলো একটা দারুণ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। সামগ্রিকভাবে জ্বালানি সেক্টরটাতে সরকার চূড়ান্ত একটা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং তারা সবসময় এই ব্যর্থতাকে আড়াল করার একটা চেষ্টা করছে।’

সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, ‘এমন ধরনের কথা তারা বলেছে যে বিদ্যুতের নাকি সংকট নেই, লোডশেডিং নাকি হয় না। বরং এক পোল থেকে আরেক পোলে বিদ্যুৎ যেতে যে সময়টা প্রয়োজন হয়, সেই সময়ের আধিক্যের কারণে নাকি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে যে দেরি হয়, সেটাকেই নাকি লোডশেডিং বলা হচ্ছে। এটা জনগণের ভোগান্তি আড়াল করে, জনগণের সত্যিকারের সংকটকে আমলে না নেওয়ার মানসিকতার একটি বহিঃপ্রকাশ।’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘নানা দিকে ভোগান্তি, সারের সংকট, বিদ্যুতের সংকট, গ্যাসের সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের একটা নাভিশ্বাস উঠে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ১১ দলীয় ঐক্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা জনগণের কাছে যাব। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা প্রান্তে আমরা যাব এবং জনগণের পক্ষ থেকে জনগণের ভোগান্তির কথাগুলোকে দেশের মিডিয়ার কাছে তুলে ধরব, সরকারের কাছে তুলে ধরব।’

লং মার্চের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা বিভাগীয় সমাবেশগুলো করেছি। এখন বিভাগগুলোতে লং মার্চের উদ্দেশ্যে আমরা যাত্রা শুরু করেছি। আমরা কিন্তু সরকারকে এখনো পর্যন্ত সময় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সরকারকে অবশ্যই সেই সময়টা ন্যায্যভাবে জনগণের কল্যাণে খরচ করতে হবে।’



আরও পড়ুন: