প্রিয়জনের নিথর দেহটা শেষবারের মতো আপনজনের কাছে পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্সে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু কে জানত, সেই ফেরার পথেই অপেক্ষা করছে আরও এক নির্মম পরিণতি! ভগ্নিপতির লাশ পৌঁছে দিতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারালেন স্কুলশিক্ষিকা ইয়ারুন নাহার লাকী।
সোমবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
নিহত ইয়ারুন নাহার লাকী গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বাঘিয়া গ্রামের আলতাফ হোসেন সবুজের স্ত্রী। তিনি আমরাইদ ইয়াকুব আলী শিকদার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, সোমবার সকালে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছোট বোন খাইরুন নাহার সম্পার স্বামী রফিকুল ইসলামের মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে বড়াইগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন লাকীসহ পরিবারের সদস্যরা।
কিন্তু স্বজনের লাশ নিয়ে শোকাহত সেই যাত্রা শেষ হওয়ার আগেই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের গুরুদাসপুর উপজেলার তালবাড়িয়া এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ইয়ারুন নাহার লাকী, নুরুন নাহার লিপি, খাইরুন নাহার সম্পা, নূর আলম, আলতাফ হোসেন সবুজ, সিয়াম ও অ্যাম্বুলেন্সের চালক আহত হন।
পরে আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে মৃত্যুর কাছে হার মানেন ইয়ারুন নাহার লাকী।
দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সের চালক পালিয়ে গেলেও কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
আরও পড়ুন:







