ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার একমাত্র এজাহারনামীয় পলাতক আসামি রিফাত পারভেজ শাওনকে (২৫) ঝিনাইদহ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯ ও র্যাব-৬-এর যৌথ আভিযানিক দল।
সোমবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু থানাধীন দোয়েল চত্বর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রিফাত পারভেজ শাওন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বড়ইছরা এলাকার কামাল পারভেজের ছেলে।
র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভুক্তভোগী সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে রিফাত তাকে প্রেমের প্রস্তাবসহ বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গত ১৪ মে ২০২৫ সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে রিফাতের বিরুদ্ধে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে গত ১২ জুন ২০২৬ দুপুরে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের তথ্যমতে, অপহরণের পর ভুক্তভোগীকে মিরপুরের একটি বাসায় নিয়ে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মিথ্যা পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেওয়া হয়। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী ১৮ বছর পূর্ণ হলে তাকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়েছিল বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে বিয়ে না করার কথা জানিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়ার অভিযোগও ওঠে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা সরাইল থানায় মামলা করেন। মামলার পর আসামিকে আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-১ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও র্যাব-৬, সিপিসি-২ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের যৌথ দল সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬:৪০ মিনিটে হরিণাকুন্ডুর দোয়েল চত্বর মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মামলার একমাত্র পলাতক এজাহারনামীয় আসামি রিফাত পারভেজ শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় মামলা নম্বর ২৩, তারিখ ১৪ আগস্ট ২০২৬ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-০৩)-এর ৭/৯(১) ধারায় মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রিফাত পারভেজ শাওনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ আরও জানায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন:







