মঙ্গলবার

১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭ ভাদ্র, ১৪৩৩

বগুড়ায় চোর সন্দেহে যুবককের পায়ের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ

আবুল কালাম আজাদ, বগুড়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১২

শেয়ার

বগুড়ায় চোর সন্দেহে যুবককের পায়ের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ
ছবি: বাংলা এডিশন

বগুড়ায় চোর সন্দেহে শামিম হোসেন নামে এক যুবককে আটক করে মারধর ও নির্যাতনের পর পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার ভোরে বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা ইউনিয়নের বারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামিম হোসেন সদর উপজেলার নামুজা ইউনিয়নের চৌমুহনী এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, শামিম তাঁর ভায়রার জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে সোমবার বিকেলে বারপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান। রাতে সেখানেই অবস্থান করেন। ভোররাত ৩টার দিকে গ্রামের সড়কে হাঁটাহাঁটি করার সময় তাঁকে চোর সন্দেহে কয়েকজন আটক করেন। এ সময় নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এ বি এম শাফি সেখানে ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা।

তাঁদের অভিযোগ, আটকের পর শামিমকে মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে একটি পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রাখা হয়।

পরে খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শামিমকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ইউপি সদস্য এ বি এম শাফিসহ কয়েকজন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাঁরা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য এ বি এম শাফি বলেন, তিনি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বর্তমানে বাড়িতে অবস্থান করছেন। ভোররাতে এলাকার এক যুবক ফোন করে চোর সন্দেহে একজনকে আটকের বিষয়টি তাঁকে জানান। তখন তিনি ওই যুবককে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আটকে রাখার পরামর্শ দেন।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে শামিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বগুড়া-নামুজা সড়ক অবরোধ করেন। তাঁরা সড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে ওই সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুব্ধরা।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।