তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য ছিল। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় অত্যাধুনিক আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার। তবে ভবন নির্মাণের প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি মূল কার্যক্রম। ফলে ব্যবহারের আগেই নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম। বিশাল ভবনটি এখন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে পরিত্যক্ত স্থাপনায়।
কুমিল্লার লালমাই বাজারের দক্ষিণ মাথায় কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে আছে লালমাই আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার। পাঁচ একর জমির ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন এই ভবনটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিতি পেয়েছে ‘লালমাইয়ের রাজপ্রাসাদ’ হিসেবে।
২০১৯ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় প্রকল্পের কাজ। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে মূল ভবনসহ অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৩ সালের শেষ দিকে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনও করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া, ফ্রিল্যান্সিং দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রতিবছর প্রায় ৩ হাজার তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
কিন্তু উদ্বোধনের পরও শুরু হয়নি প্রত্যাশিত কার্যক্রম।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জা। বাইরে রয়েছে ফুলের বাগান ও সুসজ্জিত প্রাঙ্গণ। গ্লাসে মোড়ানো আধুনিক ভবনটি দূর থেকেই নজর কাড়ে। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে জমেছে ধুলা। কোথাও কোথাও দেয়ালে দেখা দিয়েছে শ্যাওলা। ভবনের সিঁড়িতেও পানি পড়ে ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এত বড় একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য নেই পর্যাপ্ত জনবল। বিশাল ভবনটিতে বর্তমানে মাত্র দুজন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের একজন তথ্যপ্রযুক্তি অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক মাহবুবুল আলম। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা বেতনও পাচ্ছেন না।
মাহবুবুল আলম বলেন, সেন্টারটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় তিন বছর আগে। এখন এটি চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এক বছর এক মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় সমাজসেবক বাহারুল আলম সোহাগ বলেন, ভবনটি এখন এলাকার দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। বিকেলে মানুষজন এখানে ঘোরাঘুরি করেন। অথচ যে উদ্দেশ্যে এত টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেটিই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। দ্রুত কার্যক্রম শুরু না হলে মূল্যবান আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—যে প্রতিষ্ঠান তরুণদের কর্মসংস্থান তৈরির কথা, সেই প্রতিষ্ঠানই যদি বছরের পর বছর কর্মহীন পড়ে থাকে, তাহলে এত বড় বিনিয়োগের সুফল মিলবে কীভাবে?
লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস দাস জানান, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। এখানে তরুণদের আইটি প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত লালমাই আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের কার্যক্রম চালু করে তরুণদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। অন্যথায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক স্থাপনাটি শুধু ‘লালমাইয়ের রাজপ্রাসাদ’ হয়েই পড়ে থাকবে।
আরও পড়ুন:







