সোমবার

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩

নীলফামারীতে ৭৯৪ বস্তা সার জব্দ, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:০৭

শেয়ার

নীলফামারীতে ৭৯৪ বস্তা সার জব্দ, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা
ছবি: বাংলা এডিশন

কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সার অবৈধভাবে মজুদ করে অধিক দামে বিক্রির অভিযোগে নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা বাজারে অভিযান চালিয়ে ৭৯৪ বস্তা সার জব্দ করেছে প্রশাসন। এ সময় দুই ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সদর উপজেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে কচুকাটা বাজারের দুটি গোডাউনে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ।

জব্দকৃত সারের মধ্যে রয়েছে ৪০ বস্তা ইউরিয়া, ১৯৮ বস্তা টিএসপি, ৪৯ বস্তা ডিএপি এবং ৫০৭ বস্তা এমওপি সার।

অভিযানে সার মজুদের বৈধ অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না পাওয়ায় ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। আদালত মেসার্স ভাই-ভাই ট্রেডার্সের মালিক মো. শহিদুল্লাহ ইসলাম জাদুকে ১০ হাজার টাকা এবং মেসার্স মাস্টার ট্রেডার্সের মালিক মো. শাহজাহানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে উভয়কে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করায় তারা কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি পান।

সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কচুকাটা বাজারের মেসার্স ভাই-ভাই ট্রেডার্স ও মেসার্স মাস্টার ট্রেডার্সের গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মেসার্স ভাই-ভাই ট্রেডার্সের গোডাউন থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ৭৪৮ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ছিল ১৮ বস্তা ইউরিয়া, ৩৭ বস্তা ডিএপি, ১৯৩ বস্তা টিএসপি এবং ৫০০ বস্তা এমওপি। একই সময়ে মেসার্স মাস্টার ট্রেডার্সের গোডাউন থেকে ৪৬ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ছিল ২২ বস্তা ইউরিয়া, ১২ বস্তা ডিএপি, ৫ বস্তা টিএসপি এবং ৭ বস্তা এমওপি।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক আহমেদ জানান, কীটনাশক বিক্রির লাইসেন্সের আড়ালে ওই দুই ব্যবসায়ী চোরাই পথে সার সংগ্রহ করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে কৃষকদের কাছে বিক্রি করে আসছিলেন। কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত এসব সার অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছিল অধিক মুনাফার আশায়।

নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির দায়ে সার ব্যবস্থাপনা আইন এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে দুই ব্যবসায়ীকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত সার ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করা হবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত সারগুলো প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয় এবং দুটি গোডাউন সিলগালা করা হয়।