সোমবার

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৫০ তরুণের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ

রাকিবুল ইসলাম,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩০

শেয়ার

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৫০ তরুণের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ
ছবি: বাংলা এডিশন

বেকারত্বকে দক্ষতায়, আর দক্ষতাকে আয়ে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একসঙ্গে ২৫০ জন তরুণ-তরুণীকে ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং ও গ্রাফিক ডিজাইন বিষয়ে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের দাবি, দেশের মধ্যে রায়পুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এত সংখ্যক প্রশিক্ষণার্থীকে একসঙ্গে এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।

এ উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাওছার। তাঁর পরিকল্পনা ও উদ্যোগে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের অনলাইনভিত্তিক কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজের সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

সোমবার রায়পুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মেহেদী হাসান। সভাপতিত্ব করেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাওছার।

এর আগে এ কার্যক্রমের আওতায় ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্রও বিতরণ করা হয়। নতুন করে আরও ২৫০ জন যুক্ত হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ নেয়া তরুণদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০০ জনে।

প্রশিক্ষণার্থী তিন্নি আক্তার বলেন, এই প্রশিক্ষণ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি এবং বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয়ও করছি। এরই মধ্যে লোকাল মার্কেট থেকে বিভিন্ন কাজ করে ৭ হাজার ১৬৬ টাকা আয় করেছি। প্রশিক্ষণটি আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এখন আমি আরও দক্ষতা অর্জন করে নিয়মিতভাবে অনলাইনে কাজ করতে চাই। নিজের পাশাপাশি পরিবারেরও সহযোগিতা করতে চাই।

আরেক প্রশিক্ষণার্থী জয়া নাথ বলেন, আগে অনলাইনে কাজ করার বিষয়ে আমার তেমন ধারণা ছিল না। প্রশিক্ষণে এসে ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাচ্ছি। এখন বুঝতে পারছি, দক্ষতা থাকলে ঘরে বসেও নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব।

প্রশিক্ষণার্থী ইয়াসিন মুন্সী বলেন, একজন তরুণ হিসেবে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ছিল। এই প্রশিক্ষণ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য ঘরে বসে কাজ করে আয় করার যে সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে নিজেকে একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

অপর এক প্রশিক্ষণার্থী লিজা আক্তার বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করার সুযোগ তৈরি করতে চাই। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মার্কেটপ্লেসে কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ক্লায়েন্ট তৈরি করার বিষয়ও শিখছি। উপজেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগ আমাদের মতো তরুণদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অনলাইনভিত্তিক কাজের পরিধি দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশের তরুণদের বড় একটি অংশ শিক্ষিত হলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। তাই প্রচলিত চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। প্রশিক্ষণের পর প্রশিক্ষণার্থীরা যেন বাস্তবে কাজ পেয়ে আয় করতে পারেন, সেদিকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মেহেদী হাসান বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ দিন দিন বাড়ছে। আমাদের তরুণদের যদি প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তাহলে তারা শুধু চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে। রায়পুর উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। একসঙ্গে ২৫০ জন তরুণ-তরুণীকে ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল দক্ষতার প্রশিক্ষণের আওতায় আনা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আমরা চাই, প্রশিক্ষণ শেষে তারা বাস্তবে কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আয় করুন এবং নিজেদের পরিবার ও দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখুন।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাওছার বলেন, তরুণদের শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য নয়; প্রশিক্ষণ শেষে তারা যেন বাস্তবে কাজ করতে পারেন এবং আয় করতে পারেন, সেটিই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। রায়পুরের তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে স্থানীয় ও বৈশ্বিক কর্মবাজারে যুক্ত করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা শুভ্রজিত রায়সহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, সাংবাদিক ও প্রশিক্ষণার্থীরা।