মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় চাঞ্চল্যকর অজ্ঞাত নারী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত মোঃ আফছার কে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। ডিবি পুলিশের এক্সপ্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম (বিপিএম-সেবা)-এর দিক-নির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মানবেন্দ্র বালো-এর তত্ত্বাবধানে এসআই মোঃ হিমেল হোসেনের নেতৃত্বে ডিবির একটি চৌকস দল সাটুরিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে সাটুরিয়া থানাধীন নাহার গার্ডেন সংলগ্ন একটি নির্জন এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তদন্ত চালিয়ে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতের নাম লাইলী বেগম ওরফে ফাতেমা। তিনি পাবনা সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঢাকার মিরপুর মডেল থানাধীন সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় বসবাস করতেন।
ডিবির তদন্তে বেরিয়ে আসে, নিহত লাইলী বেগমের সঙ্গে গ্রেফতারকৃত মোঃ আফছারের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বিবাহ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়।
পুলিশের দাবি, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আফছার গত ২৯ আগস্ট ভিকটিমকে সঙ্গে নিয়ে সাটুরিয়ায় আসেন। পরে সন্ধ্যার দিকে নাহার গার্ডেন সংলগ্ন নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ভিকটিমকে শ্বাসরোধ করেন। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার পর ডিবি পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে ৩১ আগস্ট সোমবার রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার পল্লবী থানাধীন বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার ভাড়া বাসা থেকে মোঃ আফছারকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মোঃ আফছার মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার মৈশলোহা গ্রামের মৃত ফয়জুদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকার পল্লবী থানাধীন বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামতসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ডিভিডি ইনচার্জ মানবেন্দ্র বালো।
আরও পড়ুন:







